৮৩ বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ফজলুর রহমানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
ফজলুর রহমান ৮৩ বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন ঘোষণা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি ৮৩ বছর বয়সে এসে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। বয়স, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান সমকালীন রাজনীতি, প্রবীণ নেতাদের ভূমিকা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আলোচনার শুরুতেই তিনি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ–এর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ও তার প্রেক্ষিতে যেসব আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনার দাবি রাখে।

ফজলুর রহমান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রবীণ অনেক নেতার অবদান থাকলেও বর্তমান সময়ে তাদের অনেকেই অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি মনে করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে কঠোর বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে মানবিক বিবেচনা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ যারা একসময় দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সমাজে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও মানবিক দিকটি উপেক্ষা করা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু–এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ফজলুর রহমান বলেন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে প্রবীণ রাজনীতিবিদদের প্রতি রাষ্ট্রের মানবিক আচরণ থাকা উচিত। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের শেষ বয়সে কঠোর শাস্তিমূলক অবস্থার পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে মানবিক বিবেচনা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, দেশের রাজনীতিতে কঠোরতা ও প্রতিশোধমূলক মানসিকতা বাড়ছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত বিরোধ ও সংঘাত ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা অতিরিক্ত কঠোরতা দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই স্থায়ী সমাধান নয়। তার মতে, ইতিহাসে দেখা গেছে ক্ষমতার পালাবদল অবশ্যম্ভাবী, তাই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা ও মানবিকতা থাকা জরুরি।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান জানান। ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে তার বয়স ৭৮ বছর এবং তিনি মনে করেন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বয়স ৮৩ হলে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন না। তিনি বলেন, ওই সময় তিনি আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে চান না এবং পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সময় দিতে চান।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি এমন কোনো পরিবেশে থাকতে চান না যেখানে রাজনৈতিক বিরোধ বা আইনি জটিলতায় প্রবীণ মানুষদের কষ্ট পেতে হয়। তার মতে, একজন মানুষ যখন জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যান, তখন রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফজলুর রহমানের এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে একটি বড় ধরনের বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে বয়স, দায়িত্ব এবং অবসরের প্রশ্নটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও এবার তা নতুনভাবে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ তার মানবিক অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে মনে করছেন রাজনৈতিক মন্তব্যে আবেগের চেয়ে আইনি ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবীণ নেতাদের ভূমিকা, বিচার প্রক্রিয়া এবং মানবিক বিবেচনা—এই তিনটি বিষয়ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফজলুর রহমানের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত