হামে ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
বাংলাদেশে হামে ৭ শিশুর মৃত্যু উদ্বেগ বৃদ্ধি

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে সংক্রামক রোগ হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গজনিত জটিলতায়, আর ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হয়েছে বলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৩ জনে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যাগুলো কেবল একটি দিনের চিত্র হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের টিকাদান ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা কাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং সময়মতো টিকা না নেওয়ার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী হাম বা Measles একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য হলেও টিকাদান নিশ্চিত না হলে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬৩ জনে পৌঁছানো একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হঠাৎ করে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, শরীরে র‍্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বেড়েছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো মনে হলেও পরে তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে। নিউমোনিয়া, ডিহাইড্রেশন এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালগুলোতে শিশুরোগ ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে নতুন রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। কিছু এলাকায় অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, ব্যাপক হারে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করা হলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, অভিভাবকদের সতর্ক করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর নয়। এছাড়া কিছু পরিবারে টিকা সম্পর্কে ভুল ধারণা ও ভয় থাকার কারণে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া হচ্ছে না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকা। নির্ধারিত বয়সে টিকা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে।

এদিকে সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই দ্রুত সরকারিভাবে জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। স্কুল, মাদ্রাসা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি অবহেলা করা হলে এটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ২৪ ঘণ্টায় ৭ শিশুর মৃত্যু এবং বিপুল সংখ্যক নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দেশজুড়ে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত