পদ্মা নদীতে মিলল লাশ, ফোরকান শনাক্তে অপেক্ষা ডিএনএ রিপোর্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২৮ বার
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ফোরকান মিয়ার লাশ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সত্যিই ফোরকানের কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পদ্মা সেতু এলাকায় পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং কিছু সময় পর তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও কিছু পোশাক ছিল। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যাগ ও কাপড়ের সঙ্গে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার সম্পর্কের প্রাথমিক মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সুপার আরও জানান, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে উদ্ধার করা ব্যাগ ও কাপড় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি সংগ্রহ করেছে। একইসঙ্গে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে ফোরকানের বলে শনাক্ত করা হয়। তবে এই তথ্যই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে না বলে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কাপাসিয়ার ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান আত্মগোপনের চেষ্টা করতে গিয়ে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এটি এখনো অনুমান মাত্র, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ফরেনসিক রিপোর্টের পর।

এর আগে গত শুক্রবার কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া নিহত হন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

ঘটনার পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন বলে জানা যায়। এরপরই প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে বিভীষিকাময় দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের ভেতরে তিন শিশু সন্তানসহ পাঁচজনের মরদেহ পড়ে ছিল, যার মধ্যে একজনকে গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

তদন্তে জানা যায়, ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায়।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেশি মদের বোতল, রান্না করা খাবার এবং কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করে। ওই কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পারিবারিক কলহ এবং অর্থনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। স্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আগে থানায় করেছিলেন ফোরকান।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পারিবারিক দ্বন্দ্বই চূড়ান্তভাবে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঘটনার পর থেকেই ফোরকানকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছিল। পদ্মা সেতু এলাকায় তার ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধারের পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। এরপরই নদীতে লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেলে তদন্তে অগ্রগতি ঘটে।

তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ফোরকান মিয়ার কি না, তা নিশ্চিত করার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই তার পরিচয় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হবে।

এই ঘটনায় কাপাসিয়া ও আশপাশের এলাকায় এখনো শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব দিক খতিয়ে দেখা হবে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ফোরকানের মৃত্যু নিয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকলেও পদ্মা নদীতে উদ্ধার হওয়া মরদেহ ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। তদন্তের পরই জানা যাবে, এটি সত্যিই অভিযুক্ত ফোরকানের লাশ কি না, নাকি ঘটনার পেছনে রয়েছে আরও অজানা কোনো মোড়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত