চা বাগানে রাতের শুটিংয়ে ভয়ের অভিজ্ঞতা সাফার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
চা বাগানে সাফা কবিরের ভৌতিক অভিজ্ঞতা

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির সম্প্রতি তার অভিনয়জীবনের এক রোমাঞ্চকর ও কিছুটা গা ছমছমে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ‘চা গরম’ নাটকের শুটিংয়ের সময়কার নানা অভিজ্ঞতা, চা বাগানের নিস্তব্ধতা এবং রাতে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।

অভিনেত্রী জানান, শুটিংয়ের জন্য তারা এমন একটি চা বাগান এলাকায় অবস্থান করেছিলেন, যেখানে চারপাশে ছিল শুধু সবুজ পাহাড় আর বিস্তৃত চা-গাছের সারি। দূর-দূরান্তে কোনো জনবসতি ছিল না বললেই চলে। নির্জন টিলার ওপর একটি পুরোনো বাংলোতে পুরো টিমকে থাকতে হয়েছিল, যা দিনের আলোতে যতটা সুন্দর মনে হতো, রাত নামলেই পুরো পরিবেশ একেবারে বদলে যেত।

সাফা কবির বলেন, নাটকের একটি সংলাপে বলা ছিল আশপাশের বিশ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ নেই। বাস্তবেও চিত্রটা ছিল প্রায় একই রকম। রাত গভীর হলেই চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যেত, আর সেই নীরবতার মাঝেই হঠাৎ হঠাৎ শেয়ালের ডাক শোনা যেত, যা পরিবেশকে আরও অস্বাভাবিক করে তুলত। তিনি বলেন, শেয়ালগুলো কখনো কখনো এতটাই কাছে চলে আসত যে মনে হতো বাংলোর একেবারে আশপাশেই তারা ঘোরাফেরা করছে। তাদের একটানা চিৎকারে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক ধরনের অস্বস্তিকর আবহ তৈরি হতো।

শুটিংয়ের সময়কার সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সাফা বলেন, প্রথম কয়েকদিন বিষয়টি সবার জন্যই নতুন এবং কিছুটা রোমাঞ্চকর ছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, রাতের অদ্ভুত শব্দ আর নিস্তব্ধ পরিবেশ অনেকের মধ্যেই অজানা ভয় তৈরি করেছিল। বিশেষ করে যখন পুরো ইউনিট ক্লান্ত হয়ে রাতের বেলা বিশ্রাম নিত, তখন হঠাৎ শেয়ালের ডাক বা ঝোপঝাড়ের নড়াচড়া অনেককে চমকে দিত।

তিনি আরও বলেন, চা বাগান এলাকায় লোকমুখে নানা ধরনের ভৌতিক গল্প প্রচলিত থাকে। শুটিংয়ের সময় টিমের অনেক সদস্যই স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন গল্প শুনেছিলেন, যা রাতের পরিবেশকে আরও রহস্যময় করে তুলেছিল। যদিও সাফা নিজে এসব গল্পকে বাস্তব হিসেবে গ্রহণ না করলেও, পরিবেশের কারণে এক ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করতেন বলে জানান তিনি।

নাটক ‘চা গরম’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রজেক্টটি তার জন্য বিশেষ ছিল, কারণ এখানে শুধু অভিনয় নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল নাটকের আবহ। চিত্রনাট্যের সঙ্গে বাস্তব পরিবেশের এত মিল ছিল যে অনেক সময় মনে হতো তারা যেন সত্যিকারের কোনো নির্জন জগতে অবস্থান করছেন। নাটকের দৃশ্যধারণের সময় প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কাজ শেষ করতে হয়েছে, যা তার কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে রয়ে গেছে।

শুধু ভয়ের অভিজ্ঞতাই নয়, শুটিংয়ের সময় কিছু সুন্দর মুহূর্তও ছিল বলে জানান এই অভিনেত্রী। দিনের বেলা চা বাগানের সৌন্দর্য, পাহাড়ি বাতাস এবং প্রকৃতির নিঃশব্দ পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, এমন লোকেশনগুলোতে কাজ করার সুযোগ খুব বেশি পাওয়া যায় না, তাই কষ্টের পাশাপাশি এটি ছিল এক ধরনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের সঙ্গে আলাপচারিতায় সাফা কবির নিজের ব্যক্তিগত ভয় নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, শেয়াল বা ভৌতিক গল্পের চেয়েও তার সবচেয়ে বড় ভয় হলো সাপ। তিনি বলেন, সাপের নাম শুনলেই তিনি অস্বস্তি বোধ করেন এবং বাস্তবে কখনো সাপ দেখলে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভয় কাজ করে। এই ভয়কে তিনি নিজের দুর্বলতা হিসেবে স্বীকার করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি সামলানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান।

বিনোদন জগতের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী আরও বলেন, শুটিংয়ের সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কখনো প্রাকৃতিক পরিবেশ, কখনো আবহাওয়া, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে নির্জন স্থানে কাজ করার মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে একজন শিল্পীকে অনেক পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তবে এসব অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত একজন অভিনেতাকে আরও পরিণত করে তোলে।

সাফা কবিরের এই অভিজ্ঞতা শোনার পর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ‘চা গরম’ নাটকটি নিয়ে। অনেকেই মনে করছেন, বাস্তব অভিজ্ঞতার ছোঁয়া থাকায় নাটকটির আবহ আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চা বাগানের সেই রহস্যময় পরিবেশ এবং রাতের নিস্তব্ধতা দর্শকদের জন্য একটি ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি করবে।

বর্তমানে সাফা কবির নতুন বেশ কয়েকটি নাটক ও ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। তার মতে, একজন শিল্পীর কাজ শুধু অভিনয় করা নয়, বরং নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে চা বাগানের নির্জন পরিবেশে শুটিংয়ের সেই অভিজ্ঞতা সাফা কবিরের ক্যারিয়ারে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ভয়, রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির সৌন্দর্যের মিশেলে তৈরি সেই সময়টি তার কাছে আজও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে, যা তিনি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এক অন্যরকম আবেগ নিয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত