ব্রিকস–এর সদস্য দেশগুলোর কাছে পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের আহ্বান ইরানের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
ব্রিকসের কাছে ইরানের পশ্চিমবিরোধী আহ্বান

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ইরান। এবার দেশটি উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস–এর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে, আর এ প্রবণতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তার মতে, ব্রিকস দেশগুলো যদি সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

আরাগচি তার টেলিগ্রাম বার্তায় বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের তথাকথিত শ্রেষ্ঠত্ববোধ এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক ন্যায়ের পরিপন্থী। এই প্রবণতা ভাঙতে হলে ব্রিকসসহ উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে আরও দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। তার ভাষায়, বিশ্বের বর্তমান সংকট শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে ব্রিকস জোটে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ। এই জোট মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আহ্বান ব্রিকসের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কারণ এই জোট এখন শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পশ্চিমা প্রভাব নিয়ে ইরানের বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি দাবি করেন, কিছু শক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইনকে ব্যাখ্যা করছে এবং সেটি বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের ধারণাকে দুর্বল করছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক আহ্বান নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে একটি বড় ধরনের প্রশ্নও উত্থাপন করছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমিয়ে বহুপাক্ষিক শক্তির ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা হিসেবে এই বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ব্রিকস জোট এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের এই আহ্বানের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক অবস্থান থাকায় এ ধরনের আহ্বান নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো করার প্রচেষ্টা হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে তেহরান বিকল্প আন্তর্জাতিক মিত্রতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিকসের মতো জোটগুলো ভবিষ্যতে যদি আরও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়, তবে তা বিশ্বব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।

সব মিলিয়ে ইরানের এই আহ্বান শুধু একটি কূটনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ব্রিকস জোট এই আহ্বানে কী ধরনের অবস্থান নেয় এবং তা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত