ইলেকট্রিক গাড়িতে ৮০ লাখ ঋণ সুবিধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তার বাড়াতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি কেনায় ঋণ সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এখন গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর আগে এই সীমা ছিল ৬০ লাখ টাকা। নগরাঞ্চলের বায়ুদূষণ কমানো এবং সবুজ জ্বালানিভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু ঋণসুবিধা বাড়ালেই হবে না, আরও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। তাদের মতে, ডিজেলচালিত গাড়ির তুলনায় রোড ট্যাক্স ও আমদানি শুল্ক কমানো না হলে এবং ব্যাংক ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে না নামানো হলে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার প্রত্যাশিতভাবে বড় হবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৫০০টি ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১৭৮টি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা আরও কমে ১০০টির নিচে নেমে এসেছে। মোট যানবাহনের তুলনায় এই হার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ, যা পরিবহন খাতের বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত সীমিত।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, পরিবেশবান্ধব গাড়ি বাজারে জনপ্রিয় করতে হলে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা আরও বাড়াতে হবে। তার মতে, হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশনে ছাড় দিলে এবং ব্যাংক ঋণের সুদ কমালে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশ্বের অনেক দেশেই এমনকি পাঁচ বছর পর্যন্ত রোড ট্যাক্স মওকুফের মতো সুবিধা দেওয়া হয়, যা ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায়।

সরকার ইতোমধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ আমদানি শুল্ক, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন না থাকা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি এখনো এই খাতের বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলেকট্রিক গাড়ির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। নরওয়ের মতো দেশে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি গাড়ি এখন বৈদ্যুতিক বা হাইব্রিড, চীনের মতো দেশে এই হার ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। উন্নত দেশগুলোতে কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কারণে মানুষ ধীরে ধীরে এই ধরনের গাড়ির দিকে ঝুঁকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতেই নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। তার মতে, দেশে একটি বড় মধ্যবিত্ত শ্রেণি রয়েছে, যারা সঠিক সুযোগ পেলে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারকে দ্রুত প্রসারিত করতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ খাতে আগ্রহী হতে পারে যদি নীতিগত কাঠামো আরও সহজ করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ঋণ সুবিধা নয়, একটি সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা জরুরি। যেখানে কর ছাড়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগ একসঙ্গে কাজ করবে। তা না হলে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমান সিদ্ধান্তকে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে দেখা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত