ইন্দোনেশিয়ায় সোনার খনি ধসে ৯ জন নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
ইন্দোনেশিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ৯

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি অবৈধ স্বর্ণ খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম সুমাত্রার সিজুঞ্জুং জেলায়, যা ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ধসের পর দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে সব নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাহাড়ি এলাকাটিতে হঠাৎ করেই একটি অংশ ধসে পড়ে। সেই সময় খনির ভেতরে শ্রমিকরা খুব অল্প গভীরতায়, মাত্র কয়েক মিটার নিচে কাজ করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই মাটির বিশাল অংশ তাদের ওপর ভেঙে পড়ে, ফলে তারা আর বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলটি মূলত কোনো অনুমোদিত খনি নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন, বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্বর্ণ আহরণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

পশ্চিম সুমাত্রা পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ধসের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার অভিযানে নামে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি সরিয়ে শ্রমিকদের সন্ধান করা হয়। দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও তিনজন কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যান বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মতো খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশে অবৈধ খনি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্বর্ণ আহরণে নেমে পড়েন। নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব কার্যক্রম চালানো হয়, যা প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি একটি পরিত্যক্ত খনির অংশ, যেখানে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় স্থানীয়রা অবৈধভাবে খনন কাজ চালিয়ে আসছিলেন। দুর্ঘটনার পর এলাকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অভিযান জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনা নতুন করে অবৈধ খনির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং নজরদারির অভাবের কারণেই সাধারণ মানুষ বারবার এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তারা দাবি করেছে, অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান বা তদন্ত নয়, বরং স্থানীয়দের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন হবে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ জীবিকার সুযোগ না দিলে তারা বাধ্য হয়েই এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে থাকবে।

সিজুঞ্জুংয়ের এই দুর্ঘটনা আবারও ইন্দোনেশিয়ার খনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি, অন্যদিকে অবৈধ কার্যক্রম—এই দুইয়ের মিলিত প্রভাবে দেশটিতে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত খনিটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে, আর নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত