নেত্রকোনায় ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
  • ৬ বার
নেত্রকোনায় পাচারকালে ৬৬৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোনার মদনে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ভিজিএফ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল পরিমাণ চাল পাচারের সময় জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মধ্যরাতে ৬৬৭ বস্তা চালসহ একটি ট্রাক আটক করা হয়। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মদন উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চালবোঝাই একটি ট্রাক বের হওয়ার পরই নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে মদন-নেত্রকোনা সড়কের সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাকটিতে থাকা চালের বস্তাগুলো সরকারি সিলমোহরযুক্ত ভিজিএফ চাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক শামীম মিয়া (২৮) এবং তার সহকারী শাহীন মিয়া (২৫)কে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের মদন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ট্রাকটিও জব্দ করে থানায় রাখা হয়।

পুলিশ জানায়, ট্রাকটিতে প্রায় ২০ টন চাল ছিল, যা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে চাল পরিবহনের বিষয়ে চালক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চালবোঝাই ট্রাক বের হতে দেখে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তারা প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায়ই মূলত এই চাল পাচারের ঘটনা ধরা পড়ে।

মদন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ট্রাক ও চাল থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী জানান, সরকারি চাল জব্দের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে মদন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলের বাইরে ছিলেন এবং চাল পরিবহনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাক, চাল এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল মূলত দরিদ্র ও দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে। এ ধরনের চাল পাচারের ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই ধরনের অনিয়ম খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

নেত্রকোনায় এর আগেও সরকারি খাদ্যশস্য সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ ঘটনাটি সবচেয়ে বড় পরিসরে হওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারা আরও মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় থাকায় এসব চাল অবৈধভাবে বাজার বা মিল পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে সরকারি গুদাম থেকে চাল বাইরে নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। একই সঙ্গে গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হবে।

বর্তমানে জব্দ করা ৬৬৭ বস্তা চাল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং সেগুলোর নমুনা ও কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত