প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী Bangladesh Jamaat-e-Islami-এর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমির মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য ইসলামি আদর্শের কোনো বিকল্প নেই। তাঁর বক্তব্যে তিনি সমাজে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা এবং আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান কেবল ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্ভব। তাঁর মতে, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আদর্শিক ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার। তিনি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তার মতে, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় কার্যকর সংগঠন থাকলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
আরেক বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে বক্তব্য দেন সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দলীয় প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং নানা অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ও সহিংসতার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য তিনি স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে ইসলামী ছাত্রশিবির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আকরাম হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংগঠনিক বিস্তার নিয়ে মতামত দেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য এডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুত সংস্কার ও রাজনৈতিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন জরুরি।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার স্থানীয় পর্যায়ের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত তালিকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রার্থীদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আবদুল মোতালিব ভূঁইয়া এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট ইসরাফিল হোসাইন-এর নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কায়েতপাড়া, দাউদপুর, মুড়াপাড়া, ভোলাব ও ভুলতা ইউনিয়নের জন্যও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনে বক্তারা সামগ্রিকভাবে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তারা মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন যত শক্তিশালী হবে, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন তত সহজ হবে।
এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা একে সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সম্মেলন সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো শক্তিশালী করতে সহায়ক হলেও এর রাজনৈতিক প্রভাব নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের বাস্তব কর্মকাণ্ডের ওপর। তারা মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনসমর্থন ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক দলই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
সম্মেলন শেষে নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিতভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।