নরসিংদীতে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
নরসিংদীতে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশ: ২১ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’–এর নরসিংদী পর্বকে ঘিরে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ব্যাপক চুরির অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা দর্শক, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অন্তত শতাধিক মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৭টায় নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরনগর গ্রামের রামনগর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত এই আয়োজন। জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কয়েক হাজার দর্শকের সমাগম ঘটলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাব এবং নিয়ন্ত্রণহীন ভিড় পরিস্থিতিকে অচল করে তোলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত পাস থাকা সত্ত্বেও দর্শকদের প্রবেশের সময় চরম অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। নারী, শিশু এবং বয়স্কদেরও ঠেলাঠেলির মধ্যে দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। এ সময় প্রবেশ গেট ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, যার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভিড়ের মধ্যে থেকে মোবাইল ফোন চুরি করে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুষ্ঠানের জন্য যেখানে প্রায় তিন হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল, সেখানে এর কয়েকগুণ বেশি মানুষ ভিড় করেন। অনেকেই পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে। এতে পুরো মাঠজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চুরির ঘটনাগুলো মূলত প্রবেশপথের কাছাকাছি এবং ভিড়ের ভেতরে সংঘটিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে হাত সাফাইয়ের মাধ্যমে শতাধিক মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে অনেক দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ না করেই ক্ষোভ নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক জানান, তারা প্রবেশের সময় প্রচণ্ড চাপ ও ধাক্কাধাক্কির শিকার হন। পরে অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন তাদের মোবাইল ফোনও নেই। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকজন সাংবাদিক এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীর পক্ষ থেকেও আসে।

ঘটনার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এত বড় হট্টগোল চললেও পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলক ধীর, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

একজন সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, প্রবেশ গেটেই হঠাৎ ধাক্কাধাক্কির সময় তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে তিনি গেটের দায়িত্বে থাকা পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ৪০–৪৫ জন ব্যক্তি মোবাইল হারানোর অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, অনুষ্ঠান উপভোগ করতে জেলা ও জেলার বাইরের বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ভিড়ের সুযোগে কিছু চোর প্রবেশ করে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, থানায় অভিযোগ পাওয়া গেলে মোবাইল উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হলেও এর মতো বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। দর্শক ব্যবস্থাপনা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়ের অভাবই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয়রা জানান, এমন বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি থাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এসব ব্যবস্থার ঘাটতি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এত বড় জনসমাগম হলে সেখানে শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত পরিকল্পনা না থাকলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আসা অনেক দর্শক বলেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, আবার যারা প্রবেশ করেছেন তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার শিশুসহ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সব মিলিয়ে নরসিংদীর এই ঘটনা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের বিশৃঙ্খলা নয়, বরং জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীল আয়োজনের ঘাটতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এমন আয়োজন সফল করতে হলে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত