অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত রিট খারিজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত রিট খারিজ

প্রকাশ: ২১ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত চেয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশকে কেন্দ্র করে দেশের আইনাঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) High Court Division of Bangladesh Supreme Court-এর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবিতে আনা আইনি উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই বাতিল হয়ে যায়।

রিট আবেদনটি এর আগে রোববার (১৭ মে) দায়ের করা হয়, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের কর্মকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত চাওয়া হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, ওই সময়কালে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতে—বিশেষ করে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনে—অনিয়ম ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

রিটে প্রধান বিবাদী হিসেবে নাম আসে অধ্যাপক Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের। আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, ওই সময়ের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, তাই একটি বিচারিক কমিশনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান এবং রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানির সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণের জন্য সময় নেয় এবং পরে চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করে।

রিটকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রের একটি বিশেষ সময়ে গৃহীত নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব কর্মকাণ্ডকে “কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট” অনুযায়ী একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে যেকোনো নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে বিচারিক তদন্তের আওতায় আনার বিষয়ে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারা যুক্তি দেন, এমন তদন্তের জন্য নির্বাহী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, এবং আদালত এক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের উপযুক্ত ফোরাম নয়।

আদালতের আদেশ ঘোষণার পর আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, তারা বিশ্বাস করেন ওই সময়কালে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন ছিল। তবে আদালত তাদের আবেদন খারিজ করায় এখন তারা পরবর্তী আইনি পথ বিবেচনা করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

রিটকারী মহসিন রশীদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো সময়কালের কর্মকাণ্ডের একটি স্বচ্ছ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে তা সরকার নির্ধারণ করতে পারে, তবে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এই রায়কে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সরকারের কার্যক্রমকে আইনি জটিলতা থেকে আপাতত মুক্ত রাখবে। আবার অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রীয় নীতি ও অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিচারিক তদন্তের দাবি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এটি সরাসরি রাষ্ট্রের শাসন কাঠামো ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আদালতের এই সিদ্ধান্তকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভূমিকা বরাবরই বিতর্কিত ও আলোচিত। ফলে এই ধরনের যেকোনো তদন্তের দাবি সাধারণত রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, হাইকোর্টের এই রায় অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড ঘিরে চলমান বিতর্ককে সাময়িকভাবে থামালেও, বিষয়টি ভবিষ্যতে আবারও রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনায় ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত