লালপুরে বিদ্যালয় চত্বরে জলাবদ্ধতা, শ্রেণিকক্ষেই মাছ ধরছে শিক্ষার্থীরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার

নাটোরের লালপুর উপজেলার শ্রী সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের আশপাশ পর্যন্ত জমে থাকা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এমনকি কিছু শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানে মাছ ধরতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের রাস্তা এবং কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের সামনে ও ভেতরে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় জুতা খুলে বা পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে ছোট মাছ দেখা যাওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তা ধরার চেষ্টা করে। পরে সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিদ্যালয়ে পড়তে এসে মাছ ধরতে হবে, এমন পরিস্থিতি কখনো কল্পনাও করিনি। শ্রেণিকক্ষে যেতে কষ্ট হয়, অনেক সময় পোশাকও ভিজে যায়। এতে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, জলাবদ্ধতার কারণে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে যায়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বিদ্যালয় চত্বর উঁচু করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ের চারপাশের নিচু এলাকা এবং অপরিকল্পিত পানি প্রবাহের কারণে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু স্থায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ে সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষার মৌলিক শর্তগুলোর একটি। জলাবদ্ধতার কারণে শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘসময় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত একটি কার্যকর সমাধান বের করার চেষ্টা করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা দূর করতে শুধু সাময়িক পানি অপসারণ যথেষ্ট নয়। টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূমি উন্নয়ন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই সমস্যা ফিরে আসবে।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয় এমন একটি স্থান হওয়া উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। শ্রেণিকক্ষে মাছ ধরার মতো পরিস্থিতি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক এবং উদ্বেগজনক।

সব মিলিয়ে, লালপুরের শ্রী সুন্দরী উচ্চবিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত