প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকাসহ দেশের ১৬ অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এই সতর্কতা আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টির প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এমন আবহাওয়া দ্রুত তৈরি হতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকলেও অনেক সময় স্বল্প সময়ে ঝড় শুরু হয়। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, জেলে, মাঝি, যাত্রী এবং নদীবন্দর সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঢাকায় দুপুর থেকে সন্ধ্যার দিকে আংশিক মেঘলা আকাশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেটে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় ঢাকা অঞ্চলের নাম থাকায় নগরবাসীর জন্যও সতর্কতা জরুরি। ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে খোলা জায়গা, নির্মাণাধীন ভবন, বিলবোর্ড, বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছের নিচে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্কুল-কলেজ, অফিস বা বাজার থেকে ফেরার সময় আকাশের অবস্থা দেখে চলাচল করা ভালো। প্রয়োজন ছাড়া ঝড়ের সময় বাইরে না থাকাই নিরাপদ।
ঢাকা শহরে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেও অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে সড়কে যানজট বাড়ে। অফিসফেরত মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হলে সড়কে গাছের ডাল ভাঙা, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়া কিংবা যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তাই সন্ধ্যার আগেই যাদের জরুরি কাজ আছে, তাদের চলাচলে বাড়তি সময় হাতে রাখা দরকার।
বজ্রবৃষ্টির সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন খোলা মাঠে থাকা কৃষক, নদীতে থাকা জেলে, নৌকার যাত্রী এবং গ্রামীণ এলাকার দিনমজুরেরা। বজ্রপাত শুরু হলে খোলা মাঠ, জলাশয়, পুকুরপাড় বা নদীর ধারে থাকা বিপজ্জনক। এমন সময় নিরাপদ ঘর বা পাকা স্থাপনায় আশ্রয় নেওয়া উচিত। মোবাইল ফোন ব্যবহার, ধাতব বস্তু ধরা এবং বিদ্যুতের খুঁটির কাছে দাঁড়ানো থেকেও বিরত থাকা ভালো।
রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্ষাকালে বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অনেক সময় বেশি থাকে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া নদী ও সাগর-সংলগ্ন মানুষের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও বরিশালের নদীবন্দরগুলোতে তাই সতর্কতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট নৌযানগুলোকে আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে চলাচল করতে হবে।
নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত সাধারণত সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে দেওয়া হয়। এটি বড় বিপদের সংকেত নয়। তবে এটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ স্থানীয়ভাবে হঠাৎ ঝড়ের গতি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকার জন্য ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের বাতাসও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলেও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব এলাকায় দিনের তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বিকেলের দিকে মেঘ তৈরি হতে পারে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হতে পারে। কৃষিজমিতে কাজ করা মানুষদের তাই আকাশের অবস্থা নজরে রাখা দরকার।
পাবনা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। এসব এলাকায় নদী, চর এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষ ঝড়ের সময় বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ঘরবাড়ির টিনের চাল, অস্থায়ী দোকান, হাটবাজারের ছাউনি এবং রাস্তার পাশের অস্থায়ী স্থাপনা ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাস সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। কেউ অফিসে যান। কেউ স্কুলে সন্তান নিয়ে যান। কেউ বাজারে যান। আবার কেউ নদীপথে চলাচল করেন। তাই আগাম সতর্কতা জানানো শুধু একটি নিয়মিত আবহাওয়া বার্তা নয়। এটি জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা। অনেকেই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বড় গাছের নিচে দাঁড়ান। কিন্তু বজ্রপাতের সময় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একইভাবে নৌকায় থাকলে মাঝনদীতে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ ঘাটে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
আজকের পূর্বাভাসে ১৬ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত নদীপথে চলাচল, খোলা মাঠে কাজ, নির্মাণস্থলে অবস্থান এবং অস্থায়ী কাঠামোর নিচে বসার ক্ষেত্রে সাবধানতা দরকার।
আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন, নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকে হালনাগাদ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করতে হবে। কোনো এলাকায় কালো মেঘ জমলে, বাতাসের গতি বাড়লে বা বজ্রধ্বনি শোনা গেলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে।
সব মিলিয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বড় অংশে অস্থির আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি। তাই সতর্ক থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।