সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা সবসময়ই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, আর যখন সেই কেন্দ্রের আলোয় থাকেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন প্রতিটি রায়ের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। সোমবার (২৯ জুন) ছিল ট্রাম্পের জন্য এক অভূতপূর্ব ও চ্যালেঞ্জিং দিন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে তার সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। এই রায়গুলো কেবল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করেনি, বরং মার্কিন বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। দিনশেষে দেখা গেল, ট্রাম্পের জন্য ফলাফলটি ছিল মিশ্র—একটি বড় আইনি জয় তিনি পেয়েছেন বটে, কিন্তু বাকি তিনটি রায়ে তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে আদালতের কঠোর অবস্থানের।

দিনের সবচেয়ে আলোচিত এবং ট্রাম্পের জন্য ঐতিহাসিক জয়টি এসেছে সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের অপসারণ সংক্রান্ত মামলায়। সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘ ৯০ বছরের পুরোনো একটি আইনি নজির বাতিল করে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আগে নিয়ম ছিল, কংগ্রেস কর্তৃক গঠিত স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনারদের প্রেসিডেন্ট চাইলেই বরখাস্ত করতে পারতেন না। কিন্তু নতুন এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট এখন এসব কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বিস্তৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, যারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তারা অবশ্যই প্রেসিডেন্টের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। প্রয়োজনে তাদের অপসারণ করার পূর্ণ অধিকার প্রেসিডেন্টের থাকা উচিত। ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতির রায়ে এটি সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই তার শাসনামলে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প স্বভাবতই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, এটি এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি করল, যখন এটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।

তবে এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পকে বাকি তিনটি রায়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে। প্রথম ধাক্কাটি ছিল ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর বোর্ডের সদস্য লিসা কুককে অপসারণের প্রচেষ্টা সংক্রান্ত মামলায়। ট্রাম্প এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তুলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ-চার ভোটে ট্রাম্পের সেই পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করে আটকে দেয়। প্রধান বিচারপতি রবার্টস এই রায়েও সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো ব্যক্তিকে অপসারণের আগে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ থাকতে হবে। ফেডারেল রিজার্ভের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার যে দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, আদালত সে বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয় বড় ধাক্কাটি এসেছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে। ডাকযোগে পাঠানো বা মেইল-ইন ভোটের গণনা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন এবং তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, এতে ব্যাপক কারচুপির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আদালত ট্রাম্পের এই অবস্থানকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এই রায়ের মূল অংশটি লিখেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার সময়, স্থান ও পদ্ধতি নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত। আদালতের এই রায়ের ফলে ডাকযোগে পাঠানো ভোট নির্বাচনের দিনের ডাকমোহরযুক্ত থাকলে তা দেরিতে পৌঁছালেও গণনা করা যাবে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জালিয়াতির দাবি আদালত গ্রহণ না করায় এটি তার রাজনীতির জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সবশেষে, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের করা একটি মানহানি মামলার আপিল শুনতেও সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ই জ্যা ক্যারল মামলাটিতে ট্রাম্প স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তার আপিল গ্রহণ না করায় বিষয়টি আইনি গোলকধাঁধায় আটকে রইল। সব মিলিয়ে, সোমবারের এই রায়গুলো একটি বড় বার্তা দিচ্ছে যে, সুপ্রিম কোর্ট হয়তো রক্ষণশীল ঘরানার বিচারপতিদের আধিক্য নিয়ে গঠিত, কিন্তু তারা সব ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক এজেন্ডার সাথে একমত পোষণ করছে না। আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আদালত বারবারই বিচারিক স্বাধীনতার প্রমাণ দিচ্ছে।

এই রায়গুলোর রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। একদিকে ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টরা তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা সাজানোর পূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন, যা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পথে আদালত যে দেয়াল তুলে দিয়েছে, তা আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের জন্য দিনটি ছিল ক্ষমতার স্বাদ ও আইনি সীমাবদ্ধতার এক অদ্ভুত মিশ্রণ। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি যেমন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা পাওয়ার স্বাদ পেয়েছেন, তেমনি একজন সাধারণ আইনি বিবাদমান ব্যক্তি হিসেবে তাকে হারের তিক্ত স্বাদও গ্রহণ করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স বা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, এই রায়গুলো তারই বহিঃপ্রকাশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী নেতার ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগ যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং তার সমর্থকরা কীভাবে এই ফলাফলকে গ্রহণ করেন। আইনের পথে যে প্রতিকূলতা বা জয়—তা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং এটি পুরো মার্কিন রাষ্ট্রকাঠামোর শক্তির পরীক্ষা। সোমবারের ঘটনাপ্রবাহ এটিই প্রমাণ করে যে, আমেরিকার সংবিধানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা যতই থাকুক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নন। এই আইনি লড়াই ট্রাম্পের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত