সর্বশেষ :
ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন পূবালী ব্যাংকে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মো. সরোয়ার হোসেনকে ডেপুটি গভর্নর পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেছে সরকার। মঙ্গলবার ৩০ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন দায়িত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মুদ্রানীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অপরিসীম। এমতাবস্থায়, একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যাংকারকে ডেপুটি গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরোয়ার হোসেনের এই দায়িত্ব গ্রহণ দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. সরোয়ার হোসেনকে তার বর্তমান নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং তার অব্যবহৃত অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল স্থগিত করার শর্তসাপেক্ষে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংক্রান্ত ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের ১০(৪) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার তাকে এই সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সফি উল্লাহ। তার নিয়োগের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছরের জন্য এবং তিনি তার দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকেই এই মেয়াদ গণনা শুরু হবে। চুক্তির অন্যান্য শর্তসমূহ পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে, যা তার কার্যপরিধি ও দায়বদ্ধতাকে আরও সুনির্দিষ্ট করবে।

একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে সরোয়ার হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যাংকিং খাতের জটিল নীতিমালা অনুধাবন এবং সংকটকালীন মুহূর্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাড়তি সুবিধা দেবে। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে তিনি ব্যাংকিং খাতের সুপারভিশন, মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো পালন করবেন। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন দেশের ব্যাংকিং খাত খেলাপি ঋণসহ নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, তখন এমন একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার হাতে ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্ব অর্পণ করা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে, যা সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততার সাথে এই শূন্য পদটি পূরণের তাগিদকে নির্দেশ করে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডেপুটি গভর্নরদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরোয়ার হোসেনের মতো একজন মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত হন, তখন মাঠপর্যায়ের ব্যাংকারদের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংযোগ স্থাপন করা সহজতর হয়। এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে যে গতিশীলতা আসবে, তা সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য যে, সরোয়ার হোসেনের নিয়োগের ঠিক এমন একটি সময়ে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে রয়েছে, তখন তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা বিশেষ সহায়ক হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর জনআস্থা বজায় রাখা এবং মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য নতুন ডেপুটি গভর্নরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে তিন বছরের জন্য যে চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাকে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ প্রদান করবে যাতে তিনি তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেন। নিয়োগের পর থেকেই সরোয়ার হোসেনের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা।

দেশের অর্থনীতি আজ নানা বাঁকবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, ডলার সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয়গুলো দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে সরোয়ার হোসেন শুধু নীতিনির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং তিনি মাঠপর্যায়ে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম রোধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছে সাধারণ মানুষ। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার অন্তর্বর্তী সরকার করেছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরোয়ার হোসেনের অভিজ্ঞতা বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ব্যাংকিং মহলে এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এই নিয়োগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই তাকে একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে গণ্য করেন, যিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই গতানুগতিক ব্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে সংস্কারমুখী কাজ করতে পছন্দ করেন।

পরিশেষে বলা যায়, মো. সরোয়ার হোসেনের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিবৃদ্ধির দিকে একটি ইতিবাচক ধাপ। তিন বছর মেয়াদী এই চুক্তিতে তিনি তার কর্মদক্ষতা ও সততার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবেন এমন প্রত্যাশা সবার। একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার এই অংশগ্রহণ দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। নিয়োগের এই পর্যায়টি একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কার্যকর ও সাহসী ভূমিকা পালন করবে। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমে আসবে এবং জনমনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে—এটাই আজ প্রত্যাশিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত