সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২ বার
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মুদ্রানীতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই লক্ষ্যে নীতি সুদহার বা পলিসি রেপো রেট ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের মতোই সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার পথেই অটল রয়েছে।

নতুন এই মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং তা একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা তাদের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি তার সর্বোচ্চ চূড়ায় অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছিল। গত দুই বছরে বিভিন্ন কঠোর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে মে ২০২৬ নাগাদ তা ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও এটি একটি ইতিবাচক প্রবণতা, তবুও সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা না পর্যন্ত সতর্কতামূলক অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। এই মুদ্রানীতির প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, বিনিয়োগে ভারসাম্য আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা।

মুদ্রানীতির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা। বেসরকারি খাতে ঋণের স্থবিরতা কাটাতে এবং ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত তারল্যকে উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতের নিজস্ব তারল্য থেকে আসবে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত কৃষি, শিল্প, এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের এই তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করা হবে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করছিল, তার মধ্যে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং আস্থাহীনতা ছিল অন্যতম। মুদ্রানীতিতে সেই ক্ষতগুলো নিরাময়ের জন্য বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ কার্যকর করা, ডিপোজিট প্রোটেকশন আইনের আধুনিকায়ন এবং ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন বা রিস্ক-বেজড সুপারভিশন জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) এর মতো প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলো বাড়ানো হচ্ছে। নমনীয় ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় প্রেরণকারীদের জন্য আরও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব কারণে টাকার অবমূল্যায়ন এবং সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বাস করে, সরকারের বাজেটের সাথে সংগতি রেখে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব যদি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, মূল্যস্ফীতির মতো কঠিন সমস্যাকে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর ও সংকোচনমূলক অবস্থান মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য ফেরাতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল। এখন দেখার বিষয়, ব্যাংকগুলো কতটা দ্রুত এই প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা কত সহজে ঋণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যাশা করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সুশাসন এবং সঠিক তদারকির মাধ্যমেই কেবল মুদ্রানীতির সুফল দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত