সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

প্রকাশ:  ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি এবং এই প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হলো ডেটা সেন্টার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে এবার এক বিশাল বিনিয়োগের পথে পা বাড়িয়েছে ডিজিটাল রিয়েলটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী এই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানটি ব্ল্যাকস্টোনের মালিকানাধীন তিনটি বিশাল ডেটা সেন্টারের বড় অঙ্কের অংশীদারিত্ব কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির অর্থমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকারও বেশি। প্রযুক্তি বিশ্বের এই বিশাল বিনিয়োগ কেবল একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং আগামীর ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর এক বিশাল আস্থা ও দূরদর্শী পদক্ষপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই বিশাল চুক্তির কাঠামোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, ডিজিটাল রিয়েলটি কতটা কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। চুক্তির আওতায় তারা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থের বিনিময়ে এবং ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের শেয়ার প্রদানের মাধ্যমে ব্ল্যাকস্টোনের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি ডেটা সেন্টারের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। চুক্তির বিস্তারিত অনুযায়ী, ভার্জিনিয়ার মানাসাসে অবস্থিত দুটি ৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টারের ৮০ শতাংশ মালিকানা এখন ডিজিটাল রিয়েলটির হাতে আসবে। পাশাপাশি স্টার্লিংয়ে অবস্থিত আরও একটি ৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ডেটা সেন্টারের ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব তারা নিজেদের করে নিয়েছে। এটি কেবল সম্পদের মালিকানা বৃদ্ধি নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার বাজার হিসেবে পরিচিত ভার্জিনিয়া অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করার একটি বড় সুযোগ।

ডিজিটাল রিয়েলটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা গ্রেগ রাইট এই চুক্তিকে ব্ল্যাকস্টোনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এমন সব উচ্চমানের ডেটা সেন্টারের মালিকানা লাভ করল, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ, চুক্তির পর থেকেই এই বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসার পথ নিশ্চিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা যেভাবে এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগের জোয়ার তৈরি করেছে, তাতে ডেটা সেন্টারের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। জেএলএলের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় নির্মাণাধীন ডেটা সেন্টারগুলোর ৯২ শতাংশ সক্ষমতা আগেই গ্রাহকদের কাছে বরাদ্দ হয়ে গেছে। এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে আগেভাগে বড় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা ডিজিটাল রিয়েলটিকে এক বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।

এই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত ২০২৭ ও ২০২৮ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যখন সারা বিশ্ব এআই-এর যুগে প্রবেশ করছে, তখন এই ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ছাড়া কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না। তবে এই খবরের পর শেয়ার বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চুক্তির ঘোষণার পরপরই প্রাক-বাজার লেনদেনে ডিজিটাল রিয়েলটির শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে এই বিশাল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা সাময়িকভাবে শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের মতে, ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করলে এই সাময়িক পতন খুব একটা উদ্বেগের বিষয় নয়।

ভার্জিনিয়ার মানাসাস অঞ্চলটি মূলত বিশ্বের ডেটা সেন্টারগুলোর কেন্দ্রস্থল। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধার্থে এবং বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এই অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোকে প্রতিটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই তাদের প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছে। ডিজিটাল রিয়েলটি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বোঝাতে চাইছে যে, তারা এআই অর্থনীতির এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অংশীদার হতে চায়। তারা যে ডেটা সেন্টারগুলোর মালিকানা নিয়েছে, সেগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতায় সমৃদ্ধ। ২০৩০ সাল পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার বাজারে ডেটা সেন্টারের যে বিপুল অভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই সময়ে এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটিকে বাজারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক করে তুলবে।

পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠান সময়ের সাথে নিজেদের অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে, ভবিষ্যতে তারাই বাজারের নেতৃত্ব দেবে। ডিজিটাল রিয়েলটির এই ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনেরই এক সাহসী পদক্ষেপ। যদিও শেয়ার বাজারে সাময়িক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তবুও শিল্প বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে আমরা এই বিশাল বাণিজ্যিক উদ্যোগের সাফল্যের প্রত্যাশা করি। এআই অবকাঠামোয় এই ধরনের বিনিয়োগ শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে। যখন বিশ্ব ডিজিটাল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের অবকাঠামোই হবে আধুনিক সভ্যতার নতুন মাইলফলক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত