সর্বশেষ :
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে ডিজিটাল রিয়েলটির ৩.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক হলদিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় দগ্ধ ৩০ স্ত্রী হত্যায় প্ররোচনা: কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের মিশ্র অভিজ্ঞতা: জয় ও তিন ধাক্কা পোশাক ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার সরব উপস্থিতি এআই চিপে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিনিয়োগ: সম্ভাবনা ও ঝুঁকি হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর সরোয়ার হোসেন

সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৪ বার
সংসদে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পাস: নতুন যুগে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট। স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আগামী বুধবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বাজেটটি মূলত দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা এবং উন্নয়নের রূপরেখার এক সমন্বিত প্রতিফলন। বিগত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বৈশ্বিক অস্থিরতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই বাজেট প্রণয়ন করেছে, যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেট পাসের আগে সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাস হওয়ার সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে, যা সাধারণ করদাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। অর্থবিল পাসের প্রক্রিয়ায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটাই লাঘব করবে। একই সঙ্গে আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের বিতর্কিত সুযোগটি বাতিল করার সিদ্ধান্তটি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি অঙ্গীকারের এক শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোর করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব বাতিল করার বিষয়টি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের প্রতিটি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা বাজেটের নানা দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। অর্থবিল পাসের মাধ্যমে কর ও শুল্ক সংক্রান্ত সকল প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার ফলে এখন মাঠপর্যায়ে বাজেট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন যখন এই বিশাল বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন, তখন থেকেই অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা ছিল। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটের আকারটি যেমন বৃহৎ, তেমনি এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জও অনেক। দেশের ভেতরে এবং বাইরে অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার যে সাহস নিয়ে এই বাজেট পেশ ও পাস করেছে, তা বিনিয়োগকারীদের মাঝে এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি করবে। বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো—কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়নের প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি বাজেটে প্রাধান্য পেয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তাও নতুন বাজেটের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। সরকার ব্যাংক খাতের আস্থাহীনতা কাটিয়ে উঠতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে যে নতুন আইন প্রণয়ন ও সংশোধনীর পথে হাঁটছে, তার প্রতিফলন এই বাজেটেই স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের আয় বাড়াতে কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার যে রপ্তানিমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির কৌশলে বিশ্বাসী, এই বাজেট তারই প্রমাণ। কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা বাজেট বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নের পথকে প্রশস্ত করবে।

তবে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বৈশ্বিক সমস্যাগুলো দেশের অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। সরকার এসব ঝুঁকি মাথায় রেখেই বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একটি বাংলাদেশ অনলাইন বিশ্বাস করে যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে বাজেট বাস্তবায়নের কাজ যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবেই। উন্নয়নের এই যাত্রায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন পিছিয়ে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, বাজেট কেবল কয়েকটি খাতের বরাদ্দ বা পরিসংখ্যানের হিসাব নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের আগামী এক বছরের যাত্রাপথ। সরকার জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান রেখে যেভাবে সংশোধনীগুলো এনেছে, তা একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ধারার লক্ষণ। সংসদের সকল সদস্যের অংশগ্রহণে এই বাজেট পাস হওয়া প্রমাণ করে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সব দলই উন্নয়নের প্রশ্নে একমত হতে পারে। এখন সময় কেবল বাস্তবায়নের। যদি সরকার প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখে, তবেই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায় রয়েছে এই বাজেটের সুফল তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত