প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় খল-অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাঁর খালাতো ভাই ও ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান টাইগার মানহানির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শুধু ডিপজলই নন, তাঁর ম্যানেজার আব্দুল গণি এবং ব্যক্তিগত সহকারী খোকনকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে বাদীর সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যার ফলে তিনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে এ ওয়ান ট্রেডিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান টাইগার মামলাটি দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনারকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাসেল খন্দকার জানিয়েছেন, বাদীর অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।
মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, ব্যবসায়িক পরিচিতি ও সুনামের কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছেন ডিপজল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু একটি বাণিজ্যিক সম্পত্তি, যার মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের ৩ আগস্ট ডিপজলের ম্যানেজার আব্দুল গণি রাজধানীর দারুসসালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, আজিজুর রহমান টাইগারের নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি ডিপজলের ভাড়া দেওয়া নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সাইনবোর্ড ভেঙে নিজেদের নামে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে পরবর্তী মাস থেকে ভাড়া দাবি করার অভিযোগও করা হয়।
তবে মামলায় দাবি করা হয়েছে, ওই জিডির তদন্তে আজিজুর রহমান টাইগারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মেলার পরও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।
আজিজুর রহমান টাইগারের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির প্রকৃত মালিক তিনি নিজেই। কিন্তু ডিপজল প্রকাশ্যে সম্পত্তিটিকে নিজের বলে দাবি করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে পোস্ট দিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই নয়, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রচারিত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব প্রচারের কারণে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়িক অংশীদার, গ্রাহক এবং পরিচিত মহলের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। মামলায় আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার কারণে তিনি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, মানহানির মামলায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণে তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযোগের পেছনে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আদালত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। অন্যদিকে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকলে মামলার গতিপথ ভিন্ন হতে পারে।
এদিকে ডিপজল বা তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মনোয়ার হোসেন ডিপজল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি প্রযোজক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বও পালন করেছেন। ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অতীতেও তাঁকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও এবার পরিবারের একজন সদস্যের করা মানহানির মামলা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান টাইগারও তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্মান রক্ষার স্বার্থেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক, সম্পত্তির মালিকানা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য বা অভিযোগও আইনি পর্যালোচনার আওতায় আসছে, ফলে এ ধরনের বিরোধে আদালতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখন মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিবি তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই স্পষ্ট হবে অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং মামলাটি কোন দিকে এগোবে। আপাতত আদালতের তদন্ত নির্দেশের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই বিরোধ নতুন আইনি পর্যায়ে প্রবেশ করল।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত