বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিপিএস সেবা চালু

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ বার
বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিপিএস সেবা চালু
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। এ উদ্যোগের ফলে এখন থেকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেই ট্রাস্ট ব্যাংকের নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যাপটিতে চালু করা হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় প্রকল্প বা ডিপিএস সেবা। পর্যায়ক্রমে এই সহযোগিতার আওতায় আরও আর্থিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিকাশ।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে মোবাইল আর্থিক প্রযুক্তির সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে যেসব মানুষ নিয়মিত ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সঞ্চয় প্রকল্প পরিচালনা করতে অসুবিধা বোধ করেন, তাঁদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কর্মব্যস্ত মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং তুলনামূলক স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের জন্য এ ধরনের সেবা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

বিকাশের মাধ্যমে ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিপিএস সেবা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে। গত বুধবার অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যৌথ উদ্যোগের উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান, ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর উপস্থিত ছিলেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনের মধ্যে আরও কার্যকর সংযোগ তৈরির প্রত্যাশা তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বিকাশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় বা ডিপিএস সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ সঞ্চয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের জন্য কোন কোন মেয়াদ, কিস্তির পরিমাণ, মুনাফার হার এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও সেবার শর্তাবলি থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, প্রযুক্তি আর্থিক লেনদেনের ধরন বদলে দিলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সময়মতো সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং বিকাশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তাঁর বক্তব্যে ডিজিটাল আর্থিক সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উঠে এসেছে। দেশের অনেক মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো, বিল পরিশোধ ও দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন করে থাকেন। কিন্তু ব্যাংকিং সেবার সব সুবিধা এখনো সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে যাঁদের কর্মস্থল থেকে ব্যাংকের শাখা দূরে, যাঁদের সময়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিংবা যাঁরা নিয়মিত ব্যাংকে যাতায়াত করতে পারেন না, তাঁদের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে সঞ্চয় পরিচালনার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবার বিস্তারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের জন্য ব্যাংক কিংবা নির্দিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনেক ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা যুক্ত হলে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বহুমুখী হতে পারে। তবে মোবাইল আর্থিক লেনদেনের সুবিধা এবং ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য এক নয়। গ্রাহকদের জন্য এ পার্থক্য বোঝা জরুরি।

ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম মূলত নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত কিস্তিতে অর্থ জমা করার একটি সঞ্চয়ব্যবস্থা। সাধারণত গ্রাহক নির্ধারিত সময় পরপর একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা করেন এবং মেয়াদ শেষে চুক্তি অনুযায়ী জমাকৃত অর্থের সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফা বা সুদ পান। নিয়মিত অল্প অল্প অর্থ জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্দিষ্ট তহবিল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের সঞ্চয় প্রকল্প অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যাঁদের একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ জমা করার সামর্থ্য নেই, তাঁদের জন্য নিয়মিত কিস্তিভিত্তিক সঞ্চয় একটি পরিকল্পিত আর্থিক অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

বিকাশ অ্যাপে ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিপিএস সেবা চালু হওয়ায় গ্রাহকদের জন্য এই সঞ্চয় প্রক্রিয়া আরও সহজলভ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে সেবা গ্রহণের সুযোগ থাকলে গ্রাহককে প্রতিবার ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কিস্তি জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। একই সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সঞ্চয়সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার অভ্যাসও উৎসাহিত হতে পারে। তবে সেবাটি ব্যবহারের আগে গ্রাহকদের নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁদের অ্যাকাউন্টের ধরন, পরিচয় যাচাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছে কি না।

এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে আমানত সংগ্রহ, ঋণ, সঞ্চয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা একত্র হলে গ্রাহকদের কাছে আর্থিক পণ্য পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ তৈরি হতে পারে। এতে বিশেষ করে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা সীমিতভাবে ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহার করা মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে ডিজিটাল সেবার বিস্তারের সঙ্গে গ্রাহকের নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডিপিএস খোলার আগে কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ, মুনাফার হার, কিস্তি জমা দেওয়ার নিয়ম, বিলম্বের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত এবং মেয়াদপূর্তির অর্থ পাওয়ার পদ্ধতি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। আগাম বন্ধ করলে কী ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। শুধু অ্যাপে সেবা পাওয়া যাচ্ছে বলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়া উচিত নয়।

একই সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, পিন, পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যক্তি ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে এসব তথ্য চাইলে তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সঞ্চয়সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাপে প্রদর্শিত তথ্য যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ট্রাস্ট ব্যাংক ও বিকাশের এই সহযোগিতা প্রাথমিকভাবে ডিপিএস সেবা দিয়ে শুরু হলেও ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সেবা যুক্ত হলে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়তে পারে। তবে উদ্যোগটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে সেবার সহজলভ্যতা, স্বচ্ছতা, গ্রাহকসুরক্ষা এবং ব্যবহারকারীদের আস্থার ওপর। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সঞ্চয়কে সহজ করতে হলে সেবার শর্ত ও খরচ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি।

সব মিলিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হওয়া দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের সহযোগিতামূলক বিকাশে একটি নতুন পদক্ষেপ। নিয়মিত ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণে যাঁদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি সঞ্চয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে গ্রাহকদের উচিত নিজের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে এবং সব শর্ত ভালোভাবে বুঝে এ ধরনের সেবা গ্রহণ করা। ডিজিটাল সুবিধার সঙ্গে আর্থিক সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com