স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতিতে ইসির বড় বৈঠক আজ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৯ বার
স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতিতে ইসির বড় বৈঠক আজ

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের এ সভায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষর করা চিঠিতে সভার সময়, স্থান এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠককে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় শুধু নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়; প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ও ডাকব্যবস্থা, তথ্যপ্রচার এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন হয়। সে কারণে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একই বৈঠকে যুক্ত করে নির্বাচন আয়োজনের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদেরও সভায় থাকতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এমন বিস্তৃত সমন্বয় সভার পেছনে অন্যতম কারণ হলো একসঙ্গে একাধিক নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি। একদিকে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন, অন্যদিকে জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচনের নির্ধারিত সময়ও ঘনিয়ে আসছে। ফলে দুটি নির্বাচনী কার্যক্রমের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন গত ১০ সেপ্টেম্বর এ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। কমিশনের ওয়েবসাইটেও এ নির্বাচনের সময়সূচি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগসহ সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অপতথ্য মোকাবিলায় পৃথক মনিটরিং ব্যবস্থার উদ্যোগও নিয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ভোটকে ঘিরে কমিশনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কয়েক ধাপে আয়োজনের কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্যে প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোট ১২ নভেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের মতামত পাওয়ার পর ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ কারণে আজকের বৈঠকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সক্ষমতা, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি এবং মাঠ প্রশাসনের সমন্বয় সম্পর্কে মতামত পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো ব্যাপক পরিসরের ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা নিয়োগ, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, অর্থ ও প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়গুলো আগেভাগে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি নিয়েও ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের আচরণবিধি সংক্রান্ত গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে এখনো কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সময়সূচির কথা জানানো হলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে এটিকে চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা না করার কথা বলা হয়েছে। ফলে আজকের বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের মতামত এবং বাস্তব প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কমিশন পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে পারে।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ এবং মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা—দুই দিকেই সমান্তরাল প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন।

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশাও থাকে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু পরিবেশ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর প্রভাবও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা কিংবা অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় অবকাঠামো, জনসেবা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাই এসব নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন জাতীয় সংসদের একটি শূন্য আসন পূরণের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এটিও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট আয়োজন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে কমিশনের সামনে এখন একাধিক প্রস্তুতিমূলক কাজ রয়েছে।

সব মিলিয়ে আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামত এবং প্রস্তুতির তথ্য হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একই সঙ্গে ২৯ অক্টোবরের ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতিও আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com