ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাত ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ বার
ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাত ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব ইউনিয়নের অধীন সব ওয়ার্ডের সাংগঠনিক কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি।

সাতটি ইউনিয়নের পুরোনো কমিটি বিলুপ্তির পাশাপাশি ঈশ্বরদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, অন্যদিকে পৌরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার এবং সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সভায় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসভবনে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় পাকশী, সাঁড়া, সলিমপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, সাহাপুর, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এসব ইউনিয়নের অধীন সব ওয়ার্ডের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে নতুন নেতৃত্ব সামনে আনার মাধ্যমে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

তৃণমূলের রাজনৈতিক সংগঠনে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব কমিটি সরাসরি কাজ করে। ফলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে সাংগঠনিক তৎপরতা তৈরি করতে পারে।

উপজেলা বিএনপির সভায় নতুন কমিটি দ্রুত গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করার পর দীর্ঘ সময় সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি না করে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় নেতাদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিগুলোতে ত্যাগী, সক্রিয় ও মাঠপর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান মনিরুলকে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চললেও উপজেলা পর্যায়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করার সুযোগ থাকবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, পৌর বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের আওতাধীন নয়টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ঈশ্বরদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং এসব ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে দল আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে।

ঈশ্বরদীর রাজনীতিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যারা দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অনেকেই নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কর্মীদের নেতৃত্বে আনার সুযোগ তৈরি হলে সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে ভারসাম্য রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময় সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তৃণমূলের কর্মীদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারলে নতুন কমিটিগুলো কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ এবং সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমন নতুন কমিটির অনুমোদন দেন। ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে শহিদুল ইসলাম অটলকে সভাপতি এবং আনোয়ার হোসেন গুড্ডুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন রহমত আলী। সহসভাপতি পদে রয়েছেন শামসুর রহমান সিম্মু, সাহাবুল ইসলাম, মো. মুন্না, আবুল কালাম আজাদ সুটকা, মো. হানিফ খান ও ইয়াকুব আলী। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মো. নূর আলম হোসেন রাজেনকে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নাইয়ার আলম ও মো. আনোয়ার হোসেন লিটন।

এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন মোস্তফা কাজী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হীরা এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মেহেদী হাসান মিটু। নতুন কমিটির মাধ্যমে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

একই সময়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের সাতটি কমিটি বিলুপ্ত এবং পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি অনুমোদনের ঘটনা ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে পুরোনো কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন নেতৃত্বের দিকে এগোতে চাইছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তাই এসব স্তরে সক্রিয় ও কার্যকর নেতৃত্ব থাকলে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন যেমন সহজ হয়, তেমনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগও আরও দৃঢ় হওয়ার সুযোগ থাকে।

ঈশ্বরদীর সাত ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্তির পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন। দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা গেলে এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস কার্যকর ফল দিতে পারে। পাশাপাশি নতুন কমিটিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে দলীয় ঐক্য আরও দৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠনের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাতটি ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তব ফল নির্ভর করবে নতুন কমিটি কত দ্রুত গঠিত হয় এবং সেখানে মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাকর্মীদের কতটা জায়গা দেওয়া হয় তার ওপর। অন্যদিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন স্থানীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের পর ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম কতটা শক্তিশালী ও গতিশীল হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com