বিচ্ছেদ চেয়েও আইনি লড়াইয়ে সেলিনা জেটলি

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার
বিচ্ছেদ চেয়েও আইনি লড়াইয়ে সেলিনা জেটলি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ও তাঁর স্বামী পিটার হাগের বিবাহবিচ্ছেদ ঘিরে বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটাতে শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, সম্পত্তির অধিকার এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে সেলিনা নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, তিনি এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন, চার সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং বিদেশের আদালতে চলমান আইনি লড়াইয়ের চাপ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিটার হাগের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অভিনেত্রীর বক্তব্য ও অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

সেলিনা জেটলির বর্ণনা অনুযায়ী, গত বছরের ১২ অক্টোবর ক্রেডিট কার্ডে কেনা বিমানের টিকিট এবং একটি স্যুটকেস নিয়ে তিনি মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন। ওই স্যুটকেসে ছিল প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র, প্রয়াত মায়ের শাড়ি এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা মানসিক কষ্টের স্মৃতি। অভিনেত্রীর কাছে ঘটনাটি ছিল জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবসানের পাশাপাশি পরিচিত জীবন ও পারিবারিক পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বেদনাও ফুটে উঠেছে। দীর্ঘদিনের সংসার ছেড়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত যে কতটা কঠিন হতে পারে, তাঁর বর্ণনা সেই বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

অভিনেত্রী জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাঁদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো উপহার আসছে—এমন ধারণা থেকে ডাকঘর থেকে একটি নথি গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পরে তাঁর দাবি, নথিটি আসলে ছিল বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ। ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত ও মানসিকভাবে আঘাতজনক। প্রথম শুনানিতে বিচারক তাঁদের নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন, যাতে তাঁরা শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের পথ খুঁজে নিতে পারেন বলে সেলিনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি সংঘাত না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন।

সেলিনার দাবি, তিনি স্বামীকে অনুরোধ করেছিলেন যেন তাঁদের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতে নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের বিষয়গুলো উত্থাপন করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, বিচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে ব্যক্তিগত অভিযোগের দীর্ঘ সংঘাতে পরিণত না করে সন্তানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই ছিল তাঁর প্রত্যাশা। তবে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে সেই সমঝোতার প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

আইনি লড়াইয়ের ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল এবং আইনি খরচ বহন করতে না পারলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই বা অপর পক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবু অভিযোগটি তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সম্পর্কের অবসানের সময় আইনি ব্যয়, সম্পত্তির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ জীবনযাপনের ব্যবস্থা অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে সন্তানদের দায়িত্ব যুক্ত থাকলে এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

সেলিনার আরও অভিযোগ, পরদিন পাঠানো একটি আইনি নোটিশে বিয়ের আগের তাঁর নিজস্ব সম্পত্তির ওপরও দাবি জানানো হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানদের কাছে যেতে চাইলে তাঁকে অস্ট্রিয়া ছাড়তে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার যৌথ ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগও তাঁর ছিল না। পাশাপাশি ভারতে তাঁর বিয়ের আগের সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা চলছে—এমন তথ্য পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। এসব বিষয় তাঁর কাছে আর্থিক অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব ও সন্তানদের অবস্থানসংক্রান্ত বিষয়গুলো আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। কোন দেশের আইন কোন সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সম্পত্তির মালিকানা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং সন্তানদের হেফাজত বা অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালত কী বিবেচনা করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট নথি ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই সেলিনার অভিযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও আদালতের সিদ্ধান্ত বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্ত আইনি সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

অভিনেত্রীর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা হতো। তাঁর দাবি, সন্তানদের সাধারণ বিষয়ে বকাঝকা করার ঘটনাও রেকর্ড করা হতো এবং সেগুলো ব্যবহার করে তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ কিংবা সন্তান পালনে অযোগ্য মা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এই অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা প্রকাশিত বিবরণে স্পষ্ট নয়। পিটার হাগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ সামনে আসার অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

সেলিনা জানান, ভারতে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা এবং নিজের বাড়িতে ফিরতে না পারার কারণে তিনি অস্ট্রিয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তা নিয়ে রাতের বেলায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর প্রায় এক সপ্তাহ হোটেলে কাটান এবং ভিডিও বৈঠক ও ফোনকলের মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেন। পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে থেকে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল বলে পোস্টের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়। তবে এ সময়ের বিস্তারিত পরিস্থিতি ও সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিনেত্রীর দাবি, নিজের বিয়ের আগের সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার দিন থেকেই সন্তানদের সঙ্গে তাঁর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর এক যমজ সন্তান বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিল যে বাবা চিৎকার করে বলছেন, মা তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেলিনার অভিযোগ, সন্তানদের তাঁর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এক বছর পরও যৌথ হেফাজত নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি বলেও তিনি দাবি করেছেন। অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিচারিক এলাকার মধ্যে সন্তানদের বারবার স্থানান্তরের অভিযোগও তুলেছেন অভিনেত্রী।

সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিরোধ কোনো পরিবারের জন্যই সহজ পরিস্থিতি নয়। বিচ্ছেদের সময় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা, দৈনন্দিন জীবন এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে। এ ধরনের বিরোধে আদালত সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। তবে সেলিনা ও পিটার হাগের মামলায় আদালত কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা কোন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সন্তানদের হেফাজত নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানার জন্য বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ।

সেলিনা জেটলি ২০১০ সালে পিটার হাগকে বিয়ে করেন। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে—২০১২ সালে জন্ম নেওয়া এক জোড়া যমজ পুত্রসন্তান এবং ২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া আরও এক জোড়া যমজ সন্তান। দীর্ঘদিনের সংসার ও চার সন্তানের ভবিষ্যৎকে ঘিরেই তাঁর বর্তমান উদ্বেগের বড় অংশ। গত বছর অস্ট্রিয়ার আদালতে পিটার হাগ বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন এই বিচ্ছেদ কেবল সম্পর্কের অবসানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সম্পত্তি, সন্তানদের হেফাজত এবং দুই দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতার বিষয়ও এতে যুক্ত হয়েছে।

সেলিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের বিবরণ। পিটার হাগের বক্তব্য অনুপস্থিত থাকায় পুরো বিরোধের সব দিক এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তাই ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগের যথাযথ পরিচয় দেওয়া এবং অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, বিচ্ছেদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ইচ্ছা থাকলেও সম্পত্তি ও সন্তানের হেফাজতের মতো প্রশ্ন জড়িয়ে পড়লে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

সেলিনা জানিয়েছেন, তিনি এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং নিজের সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক ও অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তাঁর ব্যক্তিগত বেদনার বর্ণনা জনসমক্ষে আসায় বিষয়টি বিনোদনজগতের খবরের বাইরেও পারিবারিক সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং সন্তানের কল্যাণ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই বিরোধের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, যাচাইযোগ্য তথ্য এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আপাতত সেলিনার দাবি, তাঁর আইনি লড়াই এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগই ঘটনাটির মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com