ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ দেলাওয়ারের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধার অভিযোগ দেলাওয়ারের

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, সহিংসতার আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ছে। ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করে তাঁর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবার ১৪ অক্টোবর সকালে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের সেনপাড়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্যে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে প্রচারণায় বাধা ও অস্ত্রধারীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের একটি অংশ প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তাঁদের নাম বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ বক্তব্যে স্পষ্ট করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক নির্দেশনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, প্রচারণায় যত বেশি বাধা দেওয়া হবে, তাঁর ভাষায়, সাধারণ মানুষ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হবে। তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকায় পরিণত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, তাঁর দল ও প্রতীক নির্বাচিত হলে সমাজে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এসব বক্তব্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ; বাস্তবে এ ধরনের সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বক্তব্যে তুলে ধরা হয়নি।

নির্বাচনী বক্তব্যে দেলাওয়ার হোসেন ভোটারদের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বক্তব্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিষ্টি কথা, মিথ্যা প্রলোভন কিংবা প্ররোচনায় যেন কেউ প্রতারিত না হন। মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা বলা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি মন্তব্য করেন, যাঁদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারি বা সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের মুখে এসব অপরাধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি শুনলে ভোটারদের সতর্ক থাকা উচিত। তবে বক্তব্যে যেসব ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁদের পরিচয় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

দেলাওয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, একটি দলের প্রধান জনগণকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই গণভোটের রায় মেনে নেওয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দলের শীর্ষ নেতারা পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব অভিযোগ তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, ওই প্রতীকে আবার ভোট দিলে জনগণ প্রতারিত হতে পারেন এবং জুলুম ও শোষণের শিকার হতে পারেন। তবে বক্তব্যে উত্থাপিত রাজনৈতিক অভিযোগগুলোর পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট দলের জবাব তুলে ধরা হয়নি। তাই এগুলোকে দেলাওয়ার হোসেনের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

নিজের নির্বাচনী প্রতীক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে সমর্থন চাইতে গিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির অবসান ঘটাতে তাঁর দলকে একবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—নিরাপত্তা, সামাজিক শান্তি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের অধিকারকে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে রাখা। তবে নির্বাচনের পর এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কীভাবে কাজ করা হবে, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানা যায়নি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যারা জনগণের ভোটের ওপর আস্থা রাখে না এবং নির্বাচনী কারসাজির মাধ্যমে সংসদ সদস্য হতে চায়, তারাই প্রতিপক্ষের প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনে অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তবে নির্বাচনী কারসাজি বা প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাশেদ প্রধান আরও অভিযোগ করেন, একজন প্রার্থী মসজিদে নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পর অন্য প্রার্থীর সমর্থনে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা হামলার চেষ্টা করেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেন। তিনি এই ঘটনার উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের উপস্থিতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে কোন প্রার্থীর সঙ্গে ঘটনাটি সম্পর্কিত, কোথায় ও কখন ঘটনাটি ঘটেছে, কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো অভিযোগ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করতে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সম্ভাব্য ভিডিও বা অন্যান্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

রাশেদ প্রধানের মতে, কোনো সমাজে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নেতৃত্বের প্রভাবশালী অবস্থানে চলে গেলে সাধারণ মানুষ জুলুম ও শোষণের শিকার হতে পারে। তিনি এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যেও নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঠাকুরগাঁও গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি এবং অপরাধ দমনের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। তবে রাজনৈতিক বক্তৃতায় উত্থাপিত অভিযোগের পাশাপাশি অপরাধের নির্দিষ্ট ঘটনা, তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসা জরুরি, যাতে ভোটাররা যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারেন।

শুখানপুকুরী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সামাদের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবুল কাশেম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এতে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এ সময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণার পরিবেশ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

উপনির্বাচনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রচারণার স্বাধীনতা এবং প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থী বা দলের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হলে সেগুলোও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়সংগত নয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে এই মুহূর্তে প্রচারণার পরিবেশ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অস্ত্রধারীদের দিয়ে প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে—দেলাওয়ার হোসেনের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা বা ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হলে তা ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সব প্রার্থীর প্রচারণার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দেলাওয়ার হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বক্তব্যে নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের জন্য আরও যাচাই প্রয়োজন। ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি, বাস্তব পরিকল্পনা, রাজনৈতিক আচরণ এবং জনস্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সমর্থক এবং প্রশাসন—সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com