২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে যানবাহনের নিরাপত্তা, হেলমেটের মান, কার্যকর গতিসীমা, মহাসড়কের অবকাঠামো এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহনমালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সারা বছরের ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে চায় সরকার।

বুধবার ১৪ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রাম ও রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার’ শীর্ষক বৈঠকটির আয়োজন করে। এতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও বাস্তব পদক্ষেপের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সরকার এবং বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসছে না। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান, চালকদের দক্ষতা, আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাসেবা—সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবসে আলোচনা বা প্রচার চালালে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে না; প্রতিদিনের সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এই লক্ষ্য অর্জনকে সামনে রেখে মন্ত্রী সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহনমালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন, বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি। সড়ক নিরাপত্তার মতো বহুমাত্রিক বিষয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের একক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে সড়কের নকশা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি চিকিৎসা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পারস্পরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য সমন্বিত আইন প্রণয়নের বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। বিভিন্ন আইন, বিধিমালা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একটি সমন্বিত আইনের মাধ্যমে দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট করা, নিরাপত্তার মান নির্ধারণ এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কাঠামো শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন আইন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে এর বিধান কতটা বাস্তবসম্মত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা কতটা উন্নত এবং মাঠপর্যায়ে আইন কতটা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তার ওপর। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে আইন প্রণয়ন করা গেলে তার বাস্তবায়ন প্রস্তুতি নিয়েও আগেভাগে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে হেলমেটের মান হালনাগাদ ও নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য উপযুক্ত মানের হেলমেট দুর্ঘটনার সময় মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হেলমেট ব্যবহারের নিয়ম থাকলেই হবে না; মানসম্মত হেলমেট সহজলভ্য করা, মান যাচাই করা এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। একইভাবে যানবাহনের ফিটনেস, নিরাপত্তাসামগ্রী, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সড়কে চলাচলের উপযোগিতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা কার্যকর না হলে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো কঠিন হতে পারে।

গতিসীমা কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে আঘাতের মাত্রা গুরুতর করে তুলতে পারে। তাই সড়কের ধরন, যানবাহনের বৈশিষ্ট্য, আশপাশের বসতি এবং পথচারীদের চলাচল বিবেচনায় গতিসীমা নির্ধারণ ও তা কার্যকর করা জরুরি। শুধু সড়কে গতিসীমার চিহ্ন স্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; চালকেরা নিয়ম মানছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ এবং আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়ক এবং পথচারীদের বেশি চলাচল রয়েছে এমন স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

মহাসড়কের অবকাঠামো উন্নয়নেও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সড়কের নকশা ও নির্মাণে নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হলে চালক কিংবা পথচারীর সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তাই সড়কের উপযোগী নকশা, দৃশ্যমান সাইন, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাসেবা শক্তিশালী করার বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া গেলে জীবন রক্ষার সম্ভাবনা বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। এ জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা, দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং আহত ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিটে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তির পরিণতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবা ও চিকিৎসা অবকাঠামোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশের প্রচলিত সড়ক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা জরুরি। তাঁর মতে, অনিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন খাতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ খাতের অনিয়ম ও প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ভাঙার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। পরিবহনমালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও সাংবাদিকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বেতন-ভাতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চালকদের কর্মপরিবেশ ও শারীরিক সক্ষমতা সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অনিরাপদ কর্মপরিস্থিতি চালকের মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও নিরাপত্তা নীতির অংশ হওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে একই কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এম খালিদ মাহমুদ বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সরকারের অঙ্গীকার এবং এ বিষয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বৈঠকে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা বা ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

এই পদ্ধতির মূল ধারণা হলো, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা অনিবার্য নয়; সঠিক নীতি, নিরাপদ অবকাঠামো, উপযুক্ত যানবাহন, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ধারণায় দুর্ঘটনার দায় শুধু চালক বা পথচারীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পুরো পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নীতিনির্ধারক, সড়ক কর্তৃপক্ষ, পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং সড়ক ব্যবহারকারী—সবারই এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব রয়েছে।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ছিল ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশের সদস্যপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের আলোচনায় আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে সড়কের বাস্তব অবস্থা, যানবাহনের নিরাপত্তা এবং জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা দেশের সড়ক নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তার কার্যকর প্রয়োগ, নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, চালক ও যানবাহনের মান নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য পূরণে নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন, দুর্ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ সড়ক কেবল পরিবহন খাতের উন্নয়নের প্রশ্ন নয়; এটি মানুষের জীবন, পরিবারের নিরাপত্তা, কর্মজীবন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com