প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে গৃহীত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের সংশোধনী এনে ব্যয় ও মেয়াদ দুটিই বহুগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব পেশ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। মূলত ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শিরোনামে শুরু হওয়া এই মেগা উদ্যোগে এবার পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলাকেও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মূল অনুমোদিত ১,৪২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের সঙ্গে আরও ১,১৭২ কোটি টাকা যোগ করে প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৮২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত রূপান্তরের এই প্রস্তাবনা এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে মাত্র ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্ধেক কাজও শেষ না হতে ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন এলাকা যুক্তকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি সংশোধনী নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাম্প্রতিক প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যপত্র বিশ্লেষণ করে এসব বিশদ তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি নথির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি প্রথম ২০২৩ সালের ৬ জুন অনুষ্ঠিত একনেক (ECNEC) সভায় আনুষ্ঠিকভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছিল। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (GOB) বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের প্রারম্ভিক বাজেট ধরা হয়েছিল ১,৪২৮ কোটি টাকা এবং এর মূল বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধনী অনুমোদিত হলেও সেসময় প্রকল্পের মূল ব্যয় ও মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে শেরপুর জেলাকে একই ছাতার নিচে আনার তাগিদে দ্বিতীয় সংশোধনী উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের বাজেটে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার বিরাট অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই দ্বিতীয় সংশোধনীতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে গ্রাম ও গ্রামীণ সড়কের বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) নির্মাণ খাতে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিসি পদ্ধতির সড়ক নির্মাণের মোট দৈর্ঘ্য ধরা হয়েছিল ৩৯৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার, যা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ৮২০ দশমিক ৬ কিলোমিটার করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করা হয়েছে। কেবল এই একটি খাতেই বরাদ্দকৃত ব্যয় ৫৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে এক লাফ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,১৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায়, অর্থাৎ বিসি সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন পড়ছে ৬২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়াও গ্রামীণ অর্থনৈতিক হাবগুলোর সংযোগ নিশ্চিত করতে উপজেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১১৯ দশমিক ৮১ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১৪৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতাভুক্ত এরিয়া ২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার থেকে বহুগুণ বাড়িয়ে ১৬০ দশমিক ৮ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
মেগা এই সংশোধনীর মাধ্যমে টেকসই যোগাযোগের জন্য আরসিসি ও ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণেও বড় ধরনের সম্প্রসারণ আনা হচ্ছে। আরসিসি সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ১২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২০৫ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং পরিবেশবান্ধব ইউনিব্লক সড়ক ২০ দশমিক ২২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২২ দশমিক ২২ কিলোমিটার করার প্রস্তাব করেছে এলজিইডি। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ২১ হাজার ৪৫০ মিটার আরসিসি ইউ ড্রেন, ছোট-বড় খাল ও নদীর সংযোগস্থলে ২,৭৮৪ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সেতু এবং ১,৮৫১ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নথির হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় ৫৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি সময় পার হওয়ার পর এমন বিশাল ব্যয় ও নতুন এলাকা যুক্ত করার পেছনে বেশ কিছু যুক্তি দেখিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি। কার্যপত্রে তারা জানিয়েছে, সড়ক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অংশে সংযোগ স্থাপন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী নতুন সড়ক অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভৌগোলিক সন্নিকটের কারণে শেরপুর জেলাকে একই প্রকল্পের আওতায় এনে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং বিগত দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় বার্ষিক বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে মূল কাজের অগ্রগতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাম্প্রতিক প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার নথিপত্র ও কার্যপত্র বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি দাপ্তরিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জি ও বি) বাস্তবায়নাধীন ‘নেত্রকোনা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৬ জুন একনেক (ECNEC) সভায় আনুষ্ঠিকভাবে প্রথম চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখেছিল। সেসময় প্রকল্পের মূল বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল ১,৪২৮ কোটি টাকা এবং এর বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রমে গতি আনতে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছিল, তবে সেসময় প্রকল্পের মূল ব্যয় ও মেয়াদ অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে এবার শেরপুর জেলাকে একই ছাতার নিচে আনার প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনী জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্পে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ দাবি করা হলো।
প্রস্তাবিত এই দ্বিতীয় সংশোধনীতে সবচেয়ে বিশাল ও অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনা হচ্ছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ‘বিটুমিনাস কার্পেটিং’ (বিসি) পাকা সড়ক নির্মাণে। প্রাথমিক প্রকল্প নথিতে বিসি পদ্ধতির সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার, যা সংশোধনীর মাধ্যমে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ৮২০ দশমিক ৬ কিলোমিটার করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করা হয়েছে। কেবল এই একটি বিসি সড়ক নির্মাণ খাাতেই সম্ভাব্য ব্যয় ৫৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১,১৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ কেবল কার্পেটিং খাতেই অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ৬২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়াও প্রান্তিক হাটবাজার ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে উপজেলা সড়কের দৈর্ঘ্য ১৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ১১৯ দশমিক ৮১ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১৪৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার করার পরিকল্পনা প্রস্তাবনায় যুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলের উপযোগী রাখতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা এরিয়া ২৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার থেকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে ১৬০ দশমিক ৮ কিলোমিটার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে স্থায়ী ও টেকসই যাতায়াত নিশ্চিত করতে আরসিসি ও আধুনিক ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণেও আনা হচ্ছে বিশাল প্রসারণ। নিচু এলাকা ও বর্ষাকবলিত অঞ্চলের জন্য আরসিসি সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা ১২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ২০৫ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ইউনিব্লক সড়ক ২০ দশমিক ২২ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২২ দশমিক ২২ কিলোমিটার করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে নতুন লক্ষ্যমাত্রায় ২১ হাজার ৪৫০ মিটার আরসিসি ইউ ড্রেন, পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর সংযোগস্থলে ২,৭৮৪ মিটার দীর্ঘ সেতু এবং ১,৮৫১ মিটার নিরাপদ বক্স কালভার্ট নির্মাণের কর্মপরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে। অথচ সরকারি নথির সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং আর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৬৯ শতাংশে, যা টাকার অংকে দাঁড়ায় সর্বমোট ৫৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এমন বিশাল ব্যয় ও নতুন জেলা যুক্ত করার কারণ হিসেবে বেশ কিছু যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি। পিইসি সভার কার্যপত্রে এলজিইডি উল্লেখ করেছে যে, স্থানীয় সড়ক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অংশ ও নদীর পারের সংযোগ গড়ে তোলা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন সড়ক অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভৌগোলিক দূরত্বের দিক দিয়ে কাছে থাকায় শেরপুর জেলাকে একই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে এসে সমন্বিত অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। এর বাইরে বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং বিগত সময়ে প্রয়োজনীয় বার্ষিক বরাদ্দ (এডিপি বরাদ্দ) সময়মতো না পাওয়ার কারণেও নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের কাজের কাঙ্ক্ষিত গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি বলে এলজিইডির পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবভিত্তিক এই সংশোধনী পর্যালোচনার পর এলজিইডির এমন মধ্যবর্তী প্রস্তাবনার যৌক্তিকতা নিয়ে কঠোর অবস্থান ও কিছু বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, বাস্তবায়নের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নতুন এলাকা ও কাজ যুক্ত করার প্রকৃত যৌক্তিকতা এবং বর্ধিত অতিরিক্ত মেয়াদের মধ্যে চলমান ও প্রস্তাবিত কাজগুলো কীভাবে গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করা হবে, তার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এলজিইডিকে তুলে ধরতে হবে। এর পাশাপাশি ইতোমধ্যে শেষ হওয়া কাজ, বর্তমানে চলমান কাজ, বাতিল করা কাজ এবং নতুন প্রস্তাবিত কাজের পৃথক পৃথক ও স্বচ্ছ তালিকা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) যুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সরকারি ক্রয় আইন (PPA) ও ক্রয় বিধিমালা (PPR) শতভাগ মেনে টেন্ডার বা ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্গঠন, এলজিইডির অন্যান্য চলমান স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে একই কাজের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং পুরোপুরি এড়ানো এবং শত শত কোটি টাকা খরচে নির্মিত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছে কমিশন। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এসব বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণ ও শর্ত প্রতিপালন করার পর মূল্যায়ন সাপেক্ষেই সংশোধিত প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের উদ্দেশ্যে একনেক সভায় উত্থাপন করা হবে।
তবে বাস্তবায়ন কাজের মাঝপথে এসে প্রকল্পটির এমন ব্যাপক পরিবর্তন ও নতুন এলাকা যুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন। কমিশন থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাস্তবায়নের এ পর্যায়ে এসে নতুন কাজ ও এলাকা যুক্ত করার মূল যৌক্তিকতা কী এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যে চলমান ও প্রস্তাবিত কাজগুলো শেষ করতে কী বিশেষ রূপরেখা নেওয়া হয়েছে, তা এলজিইডিকে স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া ইতিমধ্যে সমাপ্ত কাজ, বর্তমানে চলমান কাজ, বাতিলকৃত অংশ এবং নতুন প্রস্তাবিত কাজের পৃথক ও স্বচ্ছ তালিকা সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) যুক্ত করার কড়া সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি ক্রয় আইন (PPA) ও বিধিমালা (PPR) শতভাগ অনুসরণ করে দরপত্র পরিকল্পনা পুনর্গঠন, এলজিইডির চলমান অন্যান্য স্থানীয় প্রকল্পের সঙ্গে কাজের পুনরাবৃত্তি বা ওভারল্যাপিং এড়ানো এবং নির্মিত কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো পরবর্তীতে সচল রাখতে সুনির্দিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এসব শর্তাবলী শতভাগ প্রতিপালন সাপেক্ষেই প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় পেশ করা হবে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত