সর্বশেষ :
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, তাইওয়ানে টাইফুনের আঘাত কালীগঞ্জে পুলিশ টহল দলকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা: এসআই ও পথচারী নিহত কুতুবদিয়ায় জেলেপল্লীতে ভয়াবহ আগুন: পুড়ে ছাই ৩৩ বসতঘর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার
রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

প্রকাশ:২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বহুতল সুপার মার্কেটের গোডাউন, দামি মেশিনপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, যার আনুমানিক আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৭৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার চান্দাইকোনা বন্দরের অত্যন্ত ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিশ্বাস সুপার মার্কেটে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। রাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আগুনে সবকিছু ছাই হয়ে যাওয়ায় নিমিষেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন একাধিক ব্যবসায়ী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. জহুরুল ইসলামের তুলার গোডাউন ও লেপ-তোষকের দোকান থেকে আগুনের প্রথম সূত্রপাত ঘটে। তুলা ও তোষক অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় আগুন খুব দ্রুত চারপাশের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার খবর পেয়ে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজে সঙ্গে নিয়ে টানা প্রায় তিন ঘণ্টার আপ্রাণ ও নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে তার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান মালামাল।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন বেডিং ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম। তাঁর গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ তুলা ও তৈরি লেপ-তোষক পুড়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়া মার্কেটের ব্যবসায়ী মিলন হোসেনের ফ্রিজের গোডাউনে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার নতুন ইলেকট্রনিক মালামাল পুড়ে গেছে। পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ী শাহাদতের গোডাউন, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও রাখা একটি মোটরসাইকেল পুড়ে গিয়ে আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পোড়া ধ্বংসস্তূপ পুরোপুরি পরিষ্কার ও চূড়ান্ত হিসাব শেষে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। জীবনের সব সঞ্চয় ও মূলধন হারানো এসব ব্যবসায়ীদের আহাজারিতে চান্দাইকোনা এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তাঁদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে সুনির্দিষ্ট নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত মূল কারণ প্রকাশ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভূঞাগাঁতী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নেজামুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ বিভাগের টেকনিক্যাল দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভবনের ভেতরের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ে অপ্রতুল ও নিম্নমানের তার ব্যবহার করার ফলেই অতিরিক্ত তাপে শর্টসার্কিট ঘটে এই ভয়াবহ আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, বাজার সমিতি ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মার্কেটের বিশিষ্ট বেডিং ব্যবসায়ী মো. জহুরুল ইসলামের বড় তুলার গোডাউন ও লেপ-তোষকের দোকান থেকে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তুলা ও তোষকের কাপড় অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় তা বাতাসের ছোঁয়ায় প্রচণ্ড বেগে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বিশ্বাস সুপার মার্কেটের ওপরের ও পেছনের অংশে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি চৌকস অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সহমর্মী সাধারণ জনতার সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘ তিন ঘণ্টার টানা আপ্রাণ ও প্রাণপণ চেষ্টার পর রাত ৩টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পৌঁছানোর আগেই তিনটি গোডাউনের সমস্ত মালামাল পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় সবচেয়ে মারাত্মক ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিশিষ্ট বেডিং ব্যবসায়ী মো. জহুরুল ইসলাম। তাঁর গোডাউনে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন আনা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, রেশমি তুলা এবং বিক্রির জন্য তৈরি শত শত লেপ-তোষক আগুনে ভস্মীভূত হয়ে অন্তত ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান। এছাড়া একই মার্কেটের ব্যবসায়ী মিলন হোসেনের রেফ্রিজারেটর ও ইলেকট্রনিক্স গোডাউনে মজুদ থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের নতুন ফ্রিজ ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। পাশাপাশি অপর গোডাউন মালিক শাহাদতের প্রসেসিং মেশিনারি, প্রক্রিয়াজাত মালামাল এবং ভেতরে রাখা একটি সচল মোটরসাইকেল পুড়ে গিয়ে আরও অন্তত পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পুরো ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর এবং চূড়ান্ত অডিট শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। চোখের সামনে আজীবনের অর্জিত সঞ্চয় ও মূলধন পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে চান্দাইকোনা বন্দর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, তদন্ত দল কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভূঞাগাঁতী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. নেজামুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ বিভাগের একটি বিশেষ কারিগরি দল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে যে ভবনের ভেতরের বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ে অপ্রতুল ও নিম্নমানের তার ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত তাপে তার গলে গিয়ে শর্টসার্কিট ঘটে এই ভয়াল আগুনের উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

অগ্নিকাণ্ডের অনাকাঙ্ক্ষিত সত্যতা নিশ্চিত করে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, রাতের বেলা দোকানপাট বন্ধ করে সব ব্যবসায়ী যখন নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক সেই ফাঁকে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আগুন লাগে। তবে আশার কথা হলো, গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় এবং ভবনের ভেতরে কোনো মানুষ অবস্থান না করায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অপরিসীম। চৈত্র বা শীতের মৌসুমে চান্দাইকোনা বন্দরের মতো বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জরুরি সরকারি ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।

অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতে স্বাভাবিক নিয়মে বন্ধ করে সবাই যখন বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে আগুনটি লাগে। আনন্দের বিষয় হলো, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের ভেতরে কেউ আটকা না থাকায় কোনো ধরনের হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনে ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চান্দাইকোনা বন্দরের সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com