সর্বশেষ :
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, তাইওয়ানে টাইফুনের আঘাত কালীগঞ্জে পুলিশ টহল দলকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা: এসআই ও পথচারী নিহত কুতুবদিয়ায় জেলেপল্লীতে ভয়াবহ আগুন: পুড়ে ছাই ৩৩ বসতঘর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার
সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলায় বিসিআইসি ও খুচরা সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক চরম ধীরগতি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জেলার মোট ১৩টি উপজেলার মধ্যে কেবল দুটি উপজেলার আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হলেও বাকি ১১টি উপজেলার ১৪১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। এতে করে ডিলারশিপ পাওয়ার আশায় থাকা শত শত আবেদনকারীর মধ্যে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নিয়োগের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কিংবা তালিকা কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারছেন না। ফলে নিয়োগ প্রত্যাশী ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তে পছন্দমতো ডিলারশিপ পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধাওয়া করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সরকারি পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকায় একজন করে অনুমোদিত সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী আগ্রহী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অফেরতযোগ্য দুই হাজার টাকা ফি এবং ১০ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য জামানতসহ আবেদন আহ্বান করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকাসহ পুরো জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সার ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য মোট ১ হাজার ২৬৬ জন ব্যবসায়ী নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ধাপে কোনো স্পষ্ট বা নির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই আট শতাধিক আবেদনকারীর ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। এভাবে হঠাৎ বড় একটি অংশকে ছাঁটাই করায় বাদ পড়া আবেদনকারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি ও মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আগেই পছন্দের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী বেছে বেছে সাধারণ আবেদনকারীদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিশেষ স্মারকের মাধ্যমে দুটি এলাকার তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই অনুযায়ী নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আটজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে নয়জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হয়। কিন্তু এরপর বেশ কয়েকটি সপ্তাহ অতিক্রম হয়ে গেলেও জেলার বাকি ১১টি উপজেলার ১৪১টি ইউনিয়নের কোনো তালিকা বা সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে আসেনি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নথিসূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপজেলাগুলোতে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় বগুড়ার স্পর্শকাতর নিয়োগ প্রক্রিয়াটির ওপর সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। এই কারণে অধিকতর নিরপেক্ষ তদন্ত ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেই বাকি ১১টি উপজেলার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলার মোট ১৩টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় আবেদন জমা পড়ার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিটি পদের বিপরীতে ছিল ব্যাপক প্রতিযোগিতা। বগুড়া সিটি করপোরেশনে মাত্র একটি ডিলারশিপ পদের বিপরীতে জমা পড়েছিল ১৬টি আবেদন। এছাড়া বগুড়া সদরে ১১টি পদের জন্য ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টির জন্য ১১৪টি, শেরপুরে ১১টির জন্য ১১৮টি, ধুনটে ১৩টির জন্য ১৬৪টি, গাবতলীতে ১৯টির জন্য ১৬২টি, সারিয়াকান্দিতে ২১টির জন্য ১৬৩টি, সোনাতলায় ৮টির জন্য ৮১টি, শিবগঞ্জে ১৬টির জন্য ৪৯টি, মোকামতলায় ১৮টির জন্য ৩৭টি, কাহালুতে ১০টির জন্য ১০০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৮টির জন্য ৭২টি, আদমদীঘিতে ৭টির জন্য ৬২টি এবং নন্দীগ্রামে ৬টি পদের বিপরীতে ৫৪টি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল।

ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াটি পরিচালনার জন্য জেলা পর্যায়ে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠিত রয়েছে। এতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জের মতো সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এনামুল হক সুমন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে তিনজনের প্যানেল তৈরি করে জেলা কমিটিতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রস্তাবিত তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই তালিকা ঢাকায় পাঠানোর পর থেকে কার্যক্রম থমকে আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও বগুড়া জেলা প্রশাসন সূত্র থেকে পাওয়া সরকারি তথ্যানুযায়ী, সমগ্র দেশব্যাপী সরকারি পর্যায়ে সারের সুষম বণ্টন, কৃত্রিম সংকট নিরসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকায় একজন করে অনুমোদিত সার ডিলার নিয়োগের যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্বারক অনুযায়ী আগ্রহীদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য ব্যাংক ড্রাফট এবং ১০ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য জামানতের শর্তে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তির পর বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকাসহ পুরো জেলার ১৩টি উপজেলা থেকে সার ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য মোট ১ হাজার ২৬৬ জন নিবন্ধিত ব্যবসায়ী নির্ধারিত ফরমে শত শত কাগজপত্রের ফাইলসহ আবেদন জমা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপেই কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত কারণ দর্শানো বা স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রদান ছাড়াই এক ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় ৮ শতাধিক আবেদনকারীর ফাইল একযোগে বাতিল করে দেওয়া হয়। এভাবে হঠাৎ বিশালসংখ্যক আবেদনকে অযোগ্য ঘোষণা করে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ আবেদনকারীদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীদের জোরালো অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের বাছাই কমিটিতে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তির অনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আগেই নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের একটি গোপন খসড়া তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই নকশা অনুযায়ী সাধারণ ও যোগ্য আবেদনকারীদের আবেদন ইচ্ছেকৃতভাবে নানা অজুহাতে বাতিল বা ছাঁটাই করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও প্রশাসনিক নথিপত্র বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিশেষ স্মারকের মাধ্যমে মাত্র দুটি প্রশাসনিক এলাকার আংশিক নিয়োগ তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য আটজন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের জন্য নয়জন সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়। কিন্তু ওই দুটি পকেট এলাকার প্রজ্ঞাপন জারির পর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও জেলার বাকি ১১টি প্রধান উপজেলার ১৪১টি ইউনিয়নের কোনো হালনাগাদ সিদ্ধান্ত কিংবা অনুমোদিত তালিকা ঢাকার কেন্দ্র থেকে জেলাপর্যায়ে পৌঁছায়নি। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আর্থিক লেনদেনের মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় বগুড়ার স্পর্শকাতর নিয়োগ প্রক্রিয়াটিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আর এ কারণেই শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রতিটি প্রার্থীর আমলনামা ও প্রস্তাবিত তালিকার ওপর অধিকতর নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যা সম্পন্ন হলেই কেবল ধাপে ধাপে বাকি ১১টি উপজেলার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বগুড়া জেলার মোট ১৩টি উপজেলা ও নবগঠিত সিটি করপোরেশন এলাকায় সার ডিলার হওয়ার জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল অভাবনীয়, যা প্রতিটি পদের বিপরীতে জমা পড়া আবেদনের হার দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। প্রাপ্ত সরকারি তথ্য মতে, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অধীনে মাত্র একটি ডিলারশিপ পদের বিপরীতে জমা পড়েছিল ১৬টি আবেদন। অন্যদিকে বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি পদের জন্য ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টি পদের বিপরীতে ১১৪টি, শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮টি, ধুনটে ১৩টি পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৬৪টি, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২টি, সারিয়াকান্দিতে ২১টি পদের বিপরীতে ১৬৩টি, সোনাতলায় ৮টির বিপরীতে ৮১টি, শিবগঞ্জে ১৬টির বিপরীতে ৪৯টি, মোকামতলায় ১৮টির বিপরীতে ৩৭টি, কাহালুতে ১০টির বিপরীতে ১০০টি, দুপচাঁচিয়ায় ৮টির বিপরীতে ৭২টি, আদমদীঘিতে ৭টি পদের জন্য ৬২টি এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার ৬টি ডিলার পদের বিপরীতে ৫৪টি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল।

নিয়োগ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে পরিচালন ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি কাজ করে আসছে। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ধান গবেষণা ইনচার্জ, বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, যুগ্ম পরিচালক (সার) এবং উপপরিচালকের (বীজ বিপণন) মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয়েছে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এনামুল হক সুমনকে। কমিটির প্রভাবশালী প্রতিনিধি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল জানান, নির্দিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নের পদের বিপরীতে প্রাপ্ত আবেদনগুলো থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে প্রতি পদে ৩ জন করে প্রার্থীর তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কমিটির অপর সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা এনামুল হক সুমন জানান, উপজেলা পর্যায়ে তৈরি প্রাথমিক তালিকা জেলা কমিটিতে এনে চুলচেরা বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন কৃষি মন্ত্রণালয়ে তা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছিল। তবে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা ব্যতিরেকে অন্য ১১টি উপজেলার ভাগ্য কেন এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তা তাদের বোধগম্য নয়।

বর্তমানে এই নিয়োগের চূড়ান্ত অগ্রগতি নিয়ে জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল এমপি ও রাজনীতিবিদদের মধ্যেও স্পষ্ট কোনো ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি নেই। বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এ প্রসঙ্গে আমার দেশকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক পর্যালোচনার আপডেট তাঁর জানা নেই এবং এই বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও কেন্দ্রীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার জানান, জেলা কমিটি থেকে আবেদন চূড়ান্ত করে ঢাকায় পাঠানো হলেও পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে কী সিদ্ধান্ত হচ্ছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি উপপরিচালক (বীজ-সার) সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, জেলা কমিটি তাদের অর্পিত দায়িত্ব সময়মতো পালন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সুপারিশ পাঠিয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে এবং প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। তবে দিন যত গড়াচ্ছে, বগুড়ার ১৪১টি ইউনিয়নের সাধারণ কৃষক ও নতুন ডিলারশিপপ্রত্যাশী শত শত ব্যবসায়ীদের মাঝে অস্থিরতা তত বাড়তেই থাকছে।

বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে স্বয়ং জেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরাও অন্ধকারে রয়েছেন। বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা জানান, সার ডিলার নিয়োগের কেন্দ্রীয় পর্যালোচনার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদারও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করে জানান, আবেদন জেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে গেছে কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অগ্রগতি তাঁর জানা নেই। বগুড়া জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি উপপরিচালক (বীজ-সার) সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, জেলা কমিটি তাঁদের দায়িত্ব পালন করে তালিকা পাঠিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের হাতে। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com