সর্বশেষ :
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, তাইওয়ানে টাইফুনের আঘাত কালীগঞ্জে পুলিশ টহল দলকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা: এসআই ও পথচারী নিহত কুতুবদিয়ায় জেলেপল্লীতে ভয়াবহ আগুন: পুড়ে ছাই ৩৩ বসতঘর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার
বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উন্নয়ন সহযোগী ও বিশ্বস্ত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার লক্ষ্যে এক বিশাল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আনুমানিক ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন বা ৬৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের বিপুল পরিমাণ বেসরকারি বিনিয়োগ করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশ জাপান। জাপানের বিশ্বখ্যাত শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিক্কেই এশিয়া’-এর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিপুল বিনিয়োগ ও দুই দেশের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রস্তুতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উদীয়মান বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর জাপানি বহুজাতিক কোম্পানি ও অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান আস্থা ও বাণিজ্যিক আগ্রহের এক বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে।

জাপানি সংবাদ মাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেগবান করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এ মাসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক দ্বি-পাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে যাচ্ছেন। টোকিওতে আয়োজিত দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে যে যৌথ ঘোষণা বা ইশতেহার প্রকাশ করা হবে, তাতে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি খাতের এই বিপুল সম্ভাব্য বিনিয়োগের রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে পারে। এশিয়ার দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় অবকাঠামোগত ও শিল্প সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সম্মেলন নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশারদরা।

নিক্কেই এশিয়ার বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৬৩৬ কোটি ডলারের বিশাল বিনিয়োগের সিংহভাগ অর্থ বাংলাদেশের অটোমোবাইল বা গাড়ি নির্মাণ শিল্প এবং ভারী ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্পজাত পণ্য উৎপাদন খাতে সরাসরি ব্যবহৃত হতে পারে। একই সাথে বর্তমানে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের বড় বড় নতুন জ্বালানি স্থাপনা ও নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প নির্মাণেও এই অর্থের একটি বড় অংশ সংস্থান করা হতে পারে। অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সার্বিক রূপান্তরে জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশাল মূলধনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বাংলাদেশে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প খাতের সার্বিক দক্ষতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

এছাড়াও জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে বিশেষ রূপরেখায় গড়ে তোলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকনোমিক জোনগুলোতে (SEZ) নতুনভাবে কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে একাধিক শীর্ষ জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রতিষ্ঠিত জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন জোনে বিনিয়োগে আগ্রহী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরাসরি এই বিশাল অর্থায়ন উদ্যোগের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, জাপানের সুখ্যাত শিল্পগোষ্ঠী সুমিতোমো কর্পোরেশনসহ একাধিক প্রভাবশালী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কনসোর্টিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যবস্থার সাথে অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার বিশদ কূটনৈতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এশিয়ান অঞ্চলের এই দুই মিত্র দেশের বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি ও ভূ-রাজনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন গতিতে সঞ্চার করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চলতি মাসেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে যাচ্ছেন। দুই দেশের শীর্ষ সরকারপ্রধানের মধ্যে টোকিওতে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সমাপ্তিতে যে যৌথ কূটনৈতিক ইশতেহার ও কৌশলগত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে, তাতে বাংলাদেশে জাপানি প্রাইভেট সেক্টরের এই বিশাল ৬৩৬ কোটি ডলারের বহুমাত্রিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের রোডম্যাপ, পারস্পরিক সুবিধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এশীয় দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রগাঢ় সম্পর্কের সুবর্ণ অধ্যায় রচনার পাশাপাশি সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভারসাম্য, অবকাঠামোগত ভিত্তি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও এই সম্মেলন নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে।

নিক্কেই এশিয়ার প্রাপ্ত বিশদ তথ্য ও শিল্প বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাপানের প্রাক্কলিত এই বিশাল ৬৩৬ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের একটি বিরাট অংশ বাংলাদেশের ভারী শিল্পখাত, বিশেষ করে আধুনিক অটোমোবাইল বা গাড়ি নির্মাণ কারখানা প্রতিষ্ঠা এবং সমন্বিত উৎপাদন শিল্প সামাজিকভাবে সম্প্রসারণে সরাসরি ব্যবহৃত হবে। এর পাশাপাশি দেশের জাতীয় উৎপাদন সচল রাখা ও অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখতে চরম জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও টেকসই পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে বড় বড় ভারী জ্বালানি কেন্দ্র, পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য সবুজ শক্তি অবকাঠামো নির্মানের মেগা প্রকল্পগুলোতেও জাপানি অর্থের বিশাল সংস্থান করা হবে। দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাপানি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ এবং বিদেশি মূলধনের সরাসরি উপস্থিতি বাংলাদেশে লাখ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে গড়ে তোলা আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বা ‘স্পেশাল ইকনোমিক জোন’ (SEZ) জাপানি শিল্পোদ্যোক্তাদের সরাসরি টানতে বিপুল কৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে। জাপানের একাধিক বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড এসব নির্দিষ্ট জোনে নতুন করে হাই-টেক কারখানা ও প্ল্যান্ট স্থাপনে কোটি কোটি ডলারের নতুন অর্থায়নের চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি উদ্যোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্মিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক করিডোরগুলোতে মূলধন খাটাতে আগ্রহী বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সরাসরি সরকারি এই সুবিধার সমীকরণে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, জাপানের শতাব্দী প্রাচীন প্রখ্যাত ট্রেডিং হাউজ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল জায়ান্ট ‘সুমিতোমো কর্পোরেশন’ সহ একাধিক বৈশ্বিক অর্থায়নকারী কনসোর্টিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে এসব আধুনিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি উন্নয়ন, সংযোগ সড়ক স্থাপন এবং পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো পরিচালনার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো শিল্পোন্নত, প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক ও অর্থনৈতিক পরাশক্তির কাছ থেকে উদীয়মান বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই পরিমাণ প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) দেশের বৈ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গতি আনা, রপ্তানি আয় বহুমুখী করা এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) দীর্ঘমেয়াদি বৈপ্লবিক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে এই জাপানি বিনিয়োগ এক স্বর্ণযুগ সূচনা করবে। আগামী দিনে জাপানের মাটিতে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের শীর্ষ বৈঠক শেষে এই বিশাল বিনিয়োগ রূপরেখা চুক্তিতে পরিণত হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো শিল্পোন্নত ও প্রযুক্তিগতভাবে শীর্ষ পরাশক্তির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বেসরকারি মূলধন ঢালার পরিকল্পনা দেশের প্রবাসী আয়, বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় এবং সার্বিক মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এই জাপানি সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের শিল্প খাতের চেহারায় ইতিবাচক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com