খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় সোহেল শেখ (৩৪) নামে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়েছে। প্রথমে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত সোহেল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তিনি উপজেলার বড় কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা গনি শেখের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখান থেকে পিস্তলের একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন সোহেল। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবর্ষণের পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। এতে সোহেলের ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর আঘাত লাগে।
হঠাৎ গুলির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত সোহেলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে সার্জারি ইউনিট-১-এর ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর বিষয়টি ঘটনার পর তাঁর চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনার খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং স্থানীয় বাইনতলা ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র গুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে পিস্তলের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে। তবে শুধু একটি গুলির খোসা উদ্ধারের মাধ্যমে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা ঘটনার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা যায় না। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।
হামলাটি কেন ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশও এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণ নিশ্চিত করেনি। ফলে ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক বক্তব্য না দিয়ে তদন্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করাই জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল শেখ ওরফে সোহেল পারভেজের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১১টি মামলা রয়েছে। তবে মামলার সংখ্যা বা অভিযোগের উপস্থিতি নিজে থেকেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। প্রতিটি মামলার প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একইভাবে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সঙ্গে বর্তমান হামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
রাজনৈতিক পরিচয় থাকা কোনো ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে গভীর রাতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকায় নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে হামলাটি রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। আহত ব্যক্তি ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—এ তথ্য তাঁর পরিচয়ের অংশ; হামলার উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য এটি একা যথেষ্ট নয়।
এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আহত ব্যক্তির নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ, ঘটনাস্থলের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ এবং হামলাকারীদের চলাচলের তথ্য যাচাইয়ের মতো পদক্ষেপ তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তাঁর ওপর হামলা বা তাঁকে গুলি করার বৈধতা তৈরি হয় না। অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বর্তমানে সোহেল শেখের চিকিৎসা এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ব্যবহৃত অস্ত্রের বিস্তারিত তথ্য এবং ঘটনার উদ্দেশ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বটিয়াঘাটার এ গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি দ্রুত তদন্তের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আহত সোহেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার মধ্য দিয়েই ঘটনার বিষয়ে স্পষ্টতা আসবে। পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার পর এ ঘটনায় পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত