ওলামা অ্যালায়েন্সের নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ বার
ওলামা অ্যালায়েন্সের নতুন দায়িত্বে ইনজিমামুল ও মাহমুদ

প্রকাশ:  ২৮ অক্টোবর  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মুফতি মাহমুদ হাসান। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি সভায় সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে তাঁদের এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সভায় সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের জরুরি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপস্থিত সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়েছে।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিই ধর্মীয় শিক্ষায় উচ্চতর অধ্যয়ন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং আলেম সমাজের অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জরুরি সভায় প্রথমে মাওলানা সানাউল্লাহ খানের পদত্যাগপত্র নিয়ে আলোচনা হয়। পরে উপস্থিত সদস্যদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় এবং সদস্যসচিবের পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এরপর উপস্থিত সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে মুফতি ইনজিমামুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এবং মুফতি মাহমুদ হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত ও ভোটকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি এ প্রক্রিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে।

তবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে সরবরাহ করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর পদত্যাগের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ, মতবিরোধ কিংবা সাংগঠনিক পরিস্থিতিকে দায়ী করার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হতে পারে। তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের সামনে সাধারণত আগের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা এবং সংগঠনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের ক্ষেত্রেও নতুন নেতৃত্বের কার্যক্রমে এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বর্তমানে রাহবার অ্যাডভাইজরির শরিয়াহ মজলিশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি রাজধানীর বাইতুর রশিদ জামে মসজিদের খতিব হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি গওহরডাঙ্গা মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরে জামিয়া রহিমিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন। ইসলামী শিক্ষার উচ্চতর এসব পাঠক্রমের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হন।

একজন খতিব হিসেবে মসজিদে ধর্মীয় আলোচনা ও মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি শরিয়াহবিষয়ক দায়িত্ব পালন তাঁর পেশাগত কাজের অংশ। এখন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে তাঁকে সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখতে হবে।

সদস্যসচিবের দায়িত্ব সাধারণত সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সভা আয়োজন, সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের গঠনতন্ত্রে এই পদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক দায়িত্বের সীমা নির্ধারণে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও পরবর্তী ঘোষণাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুফতি মাহমুদ হাসান। তিনি যাত্রাবাড়ীর জামিয়া মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ইসলামিক স্কলারস একাডেমির পরিচালক হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৮ সালে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে জামিয়াতুল আসআদ থেকে ইফতা সম্পন্ন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে সাধারণত সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয়, সাংগঠনিক বিস্তার এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মতো কাজ গুরুত্ব পায়। তবে সংগঠনটির নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী মুফতি মাহমুদ হাসানের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্মপরিধি কী হবে, তা পরবর্তী সাংগঠনিক নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কোনো সামাজিক বা সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জনসম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাহমুদ হাসান কীভাবে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন, সেটিই হবে তাঁর দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সংগঠনটির জরুরি সভায় আলেম সমাজের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং মূলধারার রাজনীতিতে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়গুলোকে সংগঠনের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় পরিসরে আলেম সমাজের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। মসজিদ, মাদরাসা, ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক পরামর্শ এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক মর্যাদা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়গুলোও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে।

এ প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আলেম সমাজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে আলোচনা বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, সদস্যদের মতামত গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

তবে সভায় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হলেও ভবিষ্যতে কোন কর্মসূচি কখন বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সংগঠনটির পরবর্তী ঘোষণা ও কার্যক্রমের দিকে নজর রাখতে হবে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সামনে এখন নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী সাংগঠনিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে সংগঠনের স্থায়ী নেতৃত্ব কাঠামো নির্ধারণের আলোচনাতেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্বের মেয়াদ কিংবা পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়সূচি সম্পর্কে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। তাই এসব বিষয়ে অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্তে না গিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করাই যুক্তিসংগত।

সব মিলিয়ে, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের জরুরি সভায় সদস্যসচিবের পদত্যাগ গ্রহণ এবং দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। এখন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মুফতি ইনজিমামুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদ হাসান কীভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন এবং আলেম সমাজের অধিকার, মর্যাদা ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সংগঠনের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com