পাকিস্তানে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৬৫০, অজস্র মানুষ নিখোঁজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫০ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পাকিস্তান বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মোকাবেলা করছে। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ, প্লাবিত হয়েছে পানির জলে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া বন্যায় দেশজুড়ে অন্তত ৬৫৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর আহত হয়েছেন ৯২০ জনের বেশি।

এনডিএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৭৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সময় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় মানুষের দুর্দশা আরও বাড়ছে। মারদান শহর এবং এর উপকণ্ঠ প্লাবিত হয়েছে ভারী বর্ষণের কারণে, সোয়াবি অঞ্চলে বৃষ্টির পানি নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে, যা ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে প্রবেশ করেছে। এছাড়া সোয়াতের মিঙ্গোরায় মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুনেরে অঞ্চলে সেতু ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা থাকায় ত্রাণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পাঞ্জাব প্রদেশেও অবিরাম বর্ষণের ফলে মুলতান, কবিরওয়ালা, ঝাং ও খুশবের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। ভাক্কর এবং মিয়ানি অঞ্চলে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-ব্যবস্থা প্রভাবিত হচ্ছে। এছাড়া খাইবার পাখতুনখোয়ায় আকস্মিক বন্যায় তিন শতাধিক মানুষ মারা গেছেন এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এনডিএমএ পর্যটকদের সতর্ক করেছেন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার জন্য এবং ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য। পাঞ্জাবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (পিডিএমএ) জানিয়েছে, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পুরো প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অব্যাহত বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা, পানি নিষ্কাশন এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে।

বন্যার প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, বসতবাড়ি ধ্বংস, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় ত্রাণ সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত