২৬ আগস্ট ২০২৫| নিজস্ব সংবাদদাতা| একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন বাণিজ্য হুমকি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেসব দেশ ডিজিটাল কর আরোপ করেছে, যদি তারা এই আইন প্রত্যাহার না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ইইউ বা সদস্য রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপরও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, বিশেষত ফ্রান্স, কানাডা ও অন্যান্য দেশ ডিজিটাল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের ওপর কর আরোপ করেছে। এই করের আওতায় আসে গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল, অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এসব আইন মূলত মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করতে বা তাদের সঙ্গে বৈষম্য করতে প্রণীত। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, এই ধরনের কর সুবিধা দিচ্ছে চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোকে, ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, যেসব দেশে ডিজিটাল কর, আইন বা নীতি আছে, তারা যদি বৈষম্যমূলক এই পদক্ষেপ প্রত্যাহার না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের রপ্তানিতে বড় শুল্ক আরোপ করবে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। এর অর্থ, ওই দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্র চিপ রপ্তানি করবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই কানাডা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স সংক্রান্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেসব দেশ মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল কর আরোপ করছে, তাদের আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক বসানোর জন্য পুনরায় তদন্ত শুরু করতে।
ডিজিটাল কর আরোপকারী দেশগুলোর যুক্তি হলো, বহুজাতিক ডিজিটাল কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আয়ের ওপর কর দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি, এই আইন বিশ্ববাণিজ্যের নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মূলত মার্কিন কোম্পানিগুলোর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নিয়ে নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।