বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে হরতাল, অচল সড়কপথ ও বন্ধ অফিস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
বাগেরহাটে আসন সংকোচনের প্রতিবাদে হরতাল, অচল সড়কপথ ও বন্ধ অফিস

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ।একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি করার চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রতিবাদে সোমবার জেলা জুড়ে ব্যাপক হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। সকাল ছয়টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।

জেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেতাকর্মীরা গাছের গুঁড়ি, যানবাহন ও বেঞ্চ ফেলে সড়ক অবরোধ করেছেন। অবরোধ চলছে বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের এলাকা, খুলনা-ঢাকা মহাসড়কের দশানী, নওয়াপাড়া, কাটাখালি, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা ও মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

হরতালের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে আটটার দিকে জেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকে তালা মেরে দেন। পরে মিছিলের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. ফকরুল হাসানের গাড়ি ওই সময় আটকানো হয়, ফলে তিনি হেঁটে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। নয়টার দিকে জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসানকেও তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় এবং তিনি তার অফিসে না গিয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

সকাল থেকে এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ. সালাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুজাফফর রহমান আলম, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুস, বিএনপি নেতা ফকির তারিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একই দাবিতে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন মোল্লা সুজনের নেতৃত্বে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিলও পরিচালিত হয়। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন থাকলেও গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব দেয় যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটে চারটির পরিবর্তে তিনটি আসন থাকবে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকে জেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় এবং সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে তারা নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশ নিয়েছিলেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে, ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তিনটি আসন বজায় রেখে গেজেট প্রকাশ করলে তার প্রতিবাদে আজকের হরতাল ও সড়ক অবরোধ পালিত হচ্ছে। জেলার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা হরতালজনিত কারণে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার মুখোমুখি হলেও নেতারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দেশের সংবিধান ও ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য শক্ত বার্তা দিতে চাচ্ছেন।

আজকের কর্মসূচি সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বাগেরহাটের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, এমন প্রতিবাদী কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশে ভোটার ও সরকারকে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত