সর্বশেষ :
আগামী বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে সংগ্রাম, সাহস ও সাফল্যের সাতকাহন: বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীর অনুপ্রেরণার গল্প অস্ট্রেলিয়াকে বিব্রতকর ইতিহাস উপহার দিল বাংলাদেশ বাজেটে এবারও থাকছে কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর এনসিটি ইস্যুতে নীরব আন্দোলনকারীরা, প্রশ্ন বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে

ডাকসুতে জিতলেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো জসীমউদ্দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ বার
ডাকসুতে জিতলেন জুলাই আন্দোলনে চোখ হারানো জসীমউদ্দিন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আলোচনায় উঠে এসেছেন জুলাই আন্দোলনের সময় চোখ হারানো শিক্ষার্থী জসীমউদ্দিন খান। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর এ তথ্য জানা যায়।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

ফলাফল অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে জসীমউদ্দিন খান পেয়েছেন ৯ হাজার ৭০৬ ভোট, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ সাকিবের ৩ হাজার ৯২২ ভোটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি। এ জয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে, কারণ প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ছাত্ররাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার বিষয়টি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

এই নির্বাচনে সর্বাধিক নজর কাড়ে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যাপক জয়। ভিপি পদে জোটের প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পান ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট এবং শামীম হোসেন পান ৩ হাজার ৬৮১ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোটে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী তানভীর বারী হামীম পান ৫ হাজার ২৮৩ ভোট, প্রতিরোধ পর্ষদের মেঘমল্লার বসু পান ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার পান ২ হাজার ১৩১ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দিন খান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তানভীর আল হাদী মায়েদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৪ ভোট।

এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে ফাতেমা তাসনিম জুমা পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৩১ ভোট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ইকবাল হায়দার ৭ হাজার ৮৩৩ ভোট, কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে উম্মে সালমা ৯ হাজার ৯২০ ভোট, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে জসীমউদ্দিন খান ৯ হাজার ৭০৬ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক পদে আরমান হোসেন ৭ হাজার ২৫৫ ভোট, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে আসিফ আব্দুল্লাহ ৯ হাজার ৬১ ভোট, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক পদে মাজহারুল ইসলাম ৯ হাজার ৩৪৪ ভোট, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ৭ হাজার ৩৮ ভোট এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক পদে সাখাওয়াত জাকারিয়া ১১ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন, যার মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ভোটার ছিলেন ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৯১৫ জন।

ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৭১ জন প্রার্থী। এর পাশাপাশি ১৮টি হলে প্রতিটি হল সংসদে ১৩টি করে মোট ২৩৪ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে একজন শিক্ষার্থীকে সর্বমোট ৪১টি ভোট দিতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত জোটের প্রভাবশালী উপস্থিতি ভবিষ্যতের ছাত্ররাজনীতির চিত্র পাল্টে দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জসীমউদ্দিন খানের জয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপ্রেরণার বার্তা ছড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত