প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী এস এম ফরহাদ। বুধবার সকালে ফলাফল ঘোষণার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ বলেন, “আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো, জিএস হিসেবে নির্বাচিত হওয়া মানে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিজয়। এটি একক ফরহাদের বিজয় হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সব শিক্ষার্থীরাই এই অর্জনের অংশীদার।” তিনি যোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর আমানত এখন আমাদের ওপর ন্যস্ত। এই দায়িত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন আমি চেষ্টা করব সৎভাবে তা পালন করতে। তবে যদি কখনো চলার পথে ভুল করি, তাহলে যেন শিক্ষার্থীরাই আমাকে শুধরে দেন।”
জিএস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অঙ্গীকারের পাশাপাশি ফরহাদ আরও জানান, ডাকসুর নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন।
এর আগে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এস এম ফরহাদ ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ২ হাজার ১৩১ ভোট।
ডাকসুর এবারের নির্বাচনে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ অধিকাংশ পদে জয়লাভ করেছে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন।
নবনির্বাচিত জিএস ফরহাদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দায়িত্বের শুরুতেই তিনি যে বিনয়ী বার্তা দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতের ছাত্র রাজনীতিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এখন মূল বিষয় হলো প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।