আজ রাজধানীতে জামায়াতসহ ৭ দলের বিক্ষোভ, জানুন সময়-স্থান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
সিইসির সঙ্গে বৈঠক জামায়াতের দাবি: নভেম্বরেই গণভোট হোক

প্রকাশ: ১৮সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও সরব হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি-দাওয়া তুলে আসা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর জোট আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করতে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল।

কর্মসূচির প্রথম দিনেই রাজধানীতে আলাদা আলাদা স্থানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে এসব দল। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ ফটক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং বিজয়নগর পানির ট্যাংকের আশেপাশে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে থাকবে বলে জানা গেছে। দলগুলোর শীর্ষ নেতারা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নির্ধারিত স্থানে সমবেত হবেন।

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে বিকাল সাড়ে ৪টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছে। এরপর সেখানে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হবে। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবনের পাশ ঘেঁষে শাহবাগ পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও আজ বিক্ষোভ করবে। সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে জোহর নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর প্রাঙ্গণে তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।

খেলাফত মজলিসের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে আসরের নামাজের পর। দলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। সমাবেশে নেতৃত্ব দেবেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। সেখানে দলের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। খেলাফত আন্দোলনও একই সময়ে একই স্থানে সমাবেশ করবে, যা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কর্মসূচি বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেই অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে। ফলে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে আজ বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনসমাগম ও সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সাতটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কেউ পাঁচ দফা, কেউ ছয় দফা এবং কেউবা সাত দফা দাবি তুলে ধরলেও তাদের মূল দাবিগুলো প্রায় একই সূত্রে গাঁথা। মূলত জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, তার ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর দাবি তাদের সবার কেন্দ্রীয় বক্তব্যে উঠে এসেছে। এছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারের দাবি তারা তুলেছে। বিশেষ করে “ফ্যাসিস্ট সরকারের” আমলে ঘটে যাওয়া গণহত্যা, দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে বিচার করতে হবে বলে নেতারা একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা আরও দাবি করছে, জাতীয় পার্টি ও ক্ষমতাসীন ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজকের এই সমাবেশ কেবল সাতটি দলের দাবিদাওয়া প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং একটি শক্তির প্রকাশও বটে। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চাইছে এবং রাজপথে সক্রিয় থাকার বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে জুলাই সনদের প্রসঙ্গকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি করছে।

এদিকে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি কর্মসূচি তারা নজরদারিতে রাখবে এবং যেখানে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের সম্ভাবনা দেখা দেবে, সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, বিক্ষোভ মিছিলের কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে। কর্মস্থলে যাওয়া-আসায় ভোগান্তিতে পড়তে পারেন হাজারো মানুষ। তবে আবার অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক দলের এ ধরনের কর্মসূচি গণতন্ত্রেরই অংশ এবং এ মাধ্যমে জনগণের দাবি প্রকাশ পায়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মুহূর্তে নির্বাচনকে ঘিরে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তার মধ্যেই সাতটি দলের এই সমাবেশ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ তারা সরাসরি নির্বাচনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া পরিবর্তনের দাবি তুলছে। জুলাই সনদকে সামনে রেখে সংবিধান সংশোধন, সংসদে সংখ্যানুপাতিক আসন বণ্টন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোতে জোর দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি এই দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকার বা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো কর্ণপাত না করে, তবে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। সেই সঙ্গে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর একত্রে আন্দোলনে নামা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

আজকের সমাবেশ ও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে কিনা, নাকি এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে, সেটি এখন রাজধানীবাসীর প্রধান প্রশ্ন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এ কর্মসূচি জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও এক ধাপ উস্কে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রত্যেকটি আন্দোলন ও প্রতিক্রিয়া সরাসরি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত