সর্বশেষ :
জনগণের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান এমরান সালেহ প্রিন্সের নোয়াখালীতে মাদকের প্রতিবাদে স্কুলছাত্র খুন, এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক তিস্তার পানি বাড়ছে, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা মাস্কের প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বোনাস, ৪ হাজার ৪০০ কর্মী হচ্ছেন মিলিয়নেয়ার বিশ্বজুড়ে প্রতি ৭০ জনে ১ জন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর এনসিটি ইস্যুতে নীরব আন্দোলনকারীরা, প্রশ্ন বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় কংগ্রেসের শরণাপন্ন মমতা, বদলাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্বকাপ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, আয় কমল ১৭ শতাংশ প্রথম সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন তারেক রহমান

২০ বছর আগে বাবাকে, এবার ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যা; চৌদ্দগ্রামে শোক ও ক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার
চৌদ্দগ্রামে হৃদয় হত্যা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দুই দশক আগে হৃদয়ের বাবাও একই ধরনের হামলায় নিহত হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় ধোড়করা বাজার এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে বাজারের পূর্ব পাশে একটি দোকানের সামনে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ঘোষতলা এলাকার এক যুবকের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফোন পেয়ে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আরও কয়েকজন যুবক বাজারে এসে জড়ো হন। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাজারের একটি গ্যারেজের সামনে অবস্থানরত কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ সময় সেখানে থাকা সিএনজি অটোরিকশা চালক রাফসান হোসেন হৃদয়ও হামলার শিকার হন।

অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে হৃদয়কে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। বুকের ডান পাশে গুরুতর ছুরিকাঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু ঘটে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আকিব মাহমুদ মাহি জানান, হৃদয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার বুকে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর নিহতের পরিবার দাবি করেছে, মোটরসাইকেলের ধাক্কা ছিল তাৎক্ষণিক ঘটনার একটি বাহ্যিক কারণ। প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় মাদক ব্যবসা ও অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই হৃদয়কে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, হৃদয় পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক ছিলেন। ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় সক্রিয় কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এই হত্যাকাণ্ডকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে পরিবারের অতীত ইতিহাস। স্বজনদের ভাষ্যমতে, ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহ হেদুকেও সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হত্যা করেছিল। প্রায় দুই দশক পর একই পরিবারের আরেক সদস্যের একই ধরনের সহিংস হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কিশোর গ্যাং ও মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। অনেকেই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানিয়েছেন, হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না অথবা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদককেন্দ্রিক সংঘাত অনেক সময় সহিংস অপরাধে রূপ নেয়। এসব ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধিও জরুরি।

চৌদ্দগ্রামের এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের বাবা ও ছেলের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা এলাকাবাসীকে নাড়া দিয়েছে। নিহত হৃদয়ের পরিবার এখন বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত