ভাড়া দেওয়া যাবে না ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাইকিং হচ্ছে কর্ণফুলীতে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
ভাড়া দেওয়া যাবে না ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাইকিং হচ্ছে কর্ণফুলীতে

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি ও জার্সি পরা এক যুবক সিএনজি অটোরিকশায় মাইক হাতে ঘোষণা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, “পরিচিত ভাড়াটিয়া না হলে এবং সঠিক কাগজপত্র ছাড়া কাউকে যেন বাসা ভাড়া দেওয়া না হয়।” ঘোষণায় আরও শোনা যায়, ভাড়াটিয়ার সব কাগজপত্র থানায় জমা দিতে হবে এবং ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাউকে’ ভাড়া দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়, এ নিয়ম ভঙ্গ হলে আশ্রয়দাতা হিসেবে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘোষণার শেষে তাকে কর্ণফুলী থানা, সিএমপি’র নাম উল্লেখ করতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভাড়াটিয়াদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের নয়, সাধারণ ভাড়াটিয়াদের জন্যও চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কর্ণফুলীর কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এমন মাইকিং তাদের বিভ্রান্ত করেছে। বাড়ির মালিকদেরও একাংশ শঙ্কায় আছেন, কারণ সত্যিই যদি এ ধরনের নির্দেশ কার্যকর হয়, তবে ভাড়াটিয়া বেছে নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।

তবে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কখনোই এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা কখনো এ ধরনের নির্দেশ দিইনি। এটি ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশোধনও করা হয়েছে।” ওসির বক্তব্যে অনেকের আশঙ্কা কমলেও ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন রয়ে গেছে— কে বা কারা পুলিশের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছে এবং এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নিছক কাকতালীয় নয়। জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের সামাজিকভাবে প্রান্তিক করে দেওয়ার জন্য কিছু গোষ্ঠী প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। মানবাধিকারকর্মীরাও বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ভাড়াটিয়া হিসেবে গ্রহণ না করা বৈষম্যমূলক, যা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অশুভ বার্তা বহন করে।

বাংলাদেশের নগরজীবনে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার সম্পর্ক সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। আইন অনুযায়ী, ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাই করা এবং তথ্য থানায় জমা দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা নতুন ও উদ্বেগজনক। এতে সামাজিক বিভাজন ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

স্থানীয়দের মতে, যদি চাকরিজীবী বা সাধারণ কোনো পরিবার কেবল রাজনৈতিক গুজব বা বিভ্রান্তিকর পরিচয়ের কারণে ভাড়া না পায়, তবে তা তাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কর্ণফুলীর ঘটনাটি তাই শুধু একটি ভিডিও বা মাইকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দায় অস্বীকার করা হয়েছে, তারপরও মানুষের মনে সংশয় রয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের ঘোষণা ভবিষ্যতে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ঘটনাটি তাই শুধু কর্ণফুলীর নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত