মিলাদ পড়ে ‘নির্বাচনি বিসমিল্লাহ’ করলেন ওসমান হাদি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
মিলাদ পড়ে ‘নির্বাচনি বিসমিল্লাহ’ করলেন ওসমান হাদি

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নধর্মী এক প্রচারণা পদ্ধতির জন্ম দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি। ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে এক মিলাদ মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের নির্বাচনী যাত্রার ‘বিসমিল্লাহ’ করেছেন। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ওসমান হাদি ঘোষণা দেন, শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে মিলাদ ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “শুক্রবার বিকাল ৪টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে আবহমান বাংলার মিলাদ পড়ে নির্বাচনি বিসমিল্লাহ করব আমরা। তবারকে থাকবে ঐতিহ্যবাহী বাতাসা। আপনাদের সবাইকে দাওয়াত। আগামী সপ্তাহ শুধু আপনাদের পরামর্শ নোট করতে থাকব।”

এই ঘোষণা প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, প্রচলিত রাজনীতিতে যেখানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় শোভাযাত্রা, মিছিল বা বড় ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে, সেখানে মিলাদ ও বাতাসার আয়োজন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে হাদি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি চান একটি আলাদা ধারা তৈরি করতে, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা হবে।

শুক্রবারের আয়োজনে শাহবাগ এলাকায় কয়েকশ’ তরুণ-যুবক এবং স্থানীয়দের উপস্থিতি দেখা যায়। মসজিদের ইমাম দ্বারা দোয়া পরিচালনার পর হাদি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আজ আমি যাত্রা শুরু করছি আল্লাহর নামে, মানুষের কল্যাণের উদ্দেশ্যে। আমি চাই ঢাকা-৮-এর মানুষকে একটি আধিপত্যবাদমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখাতে। আমার এই নির্বাচনী পথচলায় আমি আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশী।”

এই বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেন। শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, বেকারত্ব সমস্যা, সংস্কৃতি চর্চা এবং আধিপত্যমুক্ত রাজনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

শরিফ ওসমান হাদি মূলত ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন তরুণ। বিভিন্ন সময় সামাজিক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তরুণদের মধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই হাদি প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের প্রচারণা শুরু করেছেন।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “ঢাকা-৮-এর ভাই-বোনেরা, শাহবাগ মোড়ে মিলাদ পড়ে আগামী সপ্তাহে আমার নির্বাচনী জার্নির বিসমিল্লাহ বলব। আগামী শুক্রবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকালে আপনাদের পরামর্শ শোনার জন্য ঢাকা-৮-এর অলিগলিতে হাঁটব।” তার এই ঘোষণা ইতোমধ্যেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাদির এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় আবহে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা খুব একটা দেখা যায় না। তবে এটাকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

ঢাকা-৮ আসন ঐতিহাসিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং প্রায় প্রতিবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হাড্ডাহাড্ডি। ফলে হাদির মতো নতুন প্রার্থীর জন্য জায়গা তৈরি করা সহজ হবে না। তবে তরুণ ভোটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা তাকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ওসমান হাদি তার বক্তব্যে বারবার তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এ দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। আমি চাই রাজনীতিতে তাদের জন্য একটি জায়গা তৈরি হোক। তাদের স্বপ্ন, তাদের প্রত্যাশা ও তাদের শক্তি দিয়েই বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া সম্ভব।”

শুক্রবারের আয়োজনে হাদির দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ পথচারী ও কৌতূহলী মানুষও অংশ নেন। মিলাদ শেষে বাতাসা বিতরণ করা হয়, যা আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের কাছে এক ধরনের সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদির এই উদ্যোগ নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি যদি সত্যিই প্রতিদিন এলাকায় ঘুরে জনগণের মতামত সংগ্রহ করতে পারেন, তবে তা তাকে ভোটারদের কাছে আলাদা করে উপস্থাপন করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই জনপ্রিয়তাকে কতটা রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে পারবেন, তা নির্ভর করবে তার কর্মপরিকল্পনা ও মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তার ওপর।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন রঙ যোগ করেছেন। মিলাদ পড়ে নির্বাচনী বিসমিল্লাহ করার এই উদ্যোগ গণমাধ্যম, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের কাছে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তরুণ এই প্রার্থী কীভাবে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যান এবং আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত