বন্দি-বিনিময় কার্যক্রম শুরু করবে ইসরাইল ও হামাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫১ বার
গাজা শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপে বন্দি-বিনিময় কার্যক্রম শুরু করবে ইসরাইল ও হামাস

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজায় শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইসরাইল এবং হামাস বন্দি-বিনিময় প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছে। হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, ইসরাইল প্রায় এক হাজার ৯৫০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এই বন্দিদের মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, আর বাকিরা যুদ্ধ শুরুর পর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিবর্গ। বিনিময়ে হামাস ২০ জন জীবিত ইসরাইলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এই খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।

হামাসের আরও এক সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি-বিনিময় কার্যক্রম শুরু হবে। ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্যও স্থাপিত হয়েছে। সৌদি টেলিভিশন আল-শার্ক জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি ও জিম্মি বিনিময় কার্যকর হবে, যা সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে। আরেকটি সৌদি চ্যানেল আল-হাদাথ জানায়, এই ৭২ ঘণ্টার গণনা শুরু হবে তখনই, যখন ইসরাইলি সেনারা গাজায় নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে ফিরে যাবে।

হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তিতে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের নিশ্চিতকরণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাফাহ সীমান্ত এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে এবং ফিলিস্তিনি রোগী ও আহতদের মিশরে স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়া হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাফাহ সীমান্ত দুই দিকেই খুলে দেওয়া হবে। প্রথম পাঁচ দিনে গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ ট্রাক ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশ করবে। পরবর্তী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের অবিলম্বে গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

এ ধরনের বন্দি-বিনিময় কার্যক্রম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনেকটা অস্থিতিশীল, এবং এই চুক্তি কার্যকর হলে সাময়িকভাবে হলেও উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সূচি ও সীমাবদ্ধতা ঠিকমতো কার্যকর হলে, এটি ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে পারে।

গাজার এই শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা প্রত্যেক ধাপ নজরদারি করবেন। বন্দি-বিনিময় ও ত্রাণ বিতরণের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

চুক্তির ফলে গাজার বিভিন্ন অংশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর নাগরিকদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা সুবিধা ও ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে মানবিক বিপর্যয় কমানো এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য হলো, বন্দি-বিনিময় প্রক্রিয়া শুধু সামরিক বা রাজনৈতিক উপাদান নয়, এটি মানবিক ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর ধরে বন্দি ও জিম্মিদের পরিস্থিতি সংকটজনক ছিল, এবং এই চুক্তি তাদের মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন ইঙ্গিত হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত