জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বৈঠক, আলোচনায় অর্থনীতি ও কর-ব্যবস্থা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে আইএমএফ প্রতিনিধিদলের বৈঠক, আলোচনায় অর্থনীতি ও করব্যবস্থা

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলের বৈঠক। বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কর কাঠামো, সামাজিক খাত ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মিশনের চিফ অ্যাডভাইজার ক্রিস পাপাজর্জিউ। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইএমএফের ঢাকাস্থ আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো, ডেপুটি চিফ অব মিশন আইভো ক্রেজনার এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক তাওহিদ এলাহি। জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. আবদুর রব এবং কেন্দ্রীয় নেতা শফিউল্লাহ।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে জামায়াতের মতামত জানতে চেয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

জামায়াতের প্রতিনিধি দল বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে। তারা বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি দেশের অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে বেকারত্ব ও আয় বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

জামায়াত নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন নীতিগত সংস্কারের বড় প্রয়োজনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, দেশের জনগণের অর্থনৈতিক কল্যাণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন সবচেয়ে বড় শর্ত।

অন্যদিকে আইএমএফ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা জানতে চান, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক খাতের উন্নয়ন এবং কর কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা জামায়াতের কাছ থেকে জানতে চান, কীভাবে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা যায় যা জনগণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকে ড. আবদুর রব বলেন, “অর্থনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন। একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে সামাজিক ন্যায়বিচার ও আর্থিক সমতার ওপর। আমরা চাই, অর্থনীতি হোক মানবিক মূল্যবোধের ধারক ও বাহক।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দলের আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিতও হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, আইএমএফ সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য বিভিন্ন দল ও অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করছে। এর লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা দেওয়ার জন্য তাদের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করা। জামায়াতের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠকও সেই উদ্যোগের ধারাবাহিক অংশ।

তবে জামায়াতের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের বিষয়বস্তু নিয়েই হয়েছে, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা জড়িত নয়। তারা বলেন, দলের পক্ষ থেকে যে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দেশের স্বার্থে গঠনমূলক আলোচনায় বসা সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখা হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যাতে জনকল্যাণভিত্তিক হয়, সে লক্ষ্যে দলটি সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তারা যেকোনো নীতিনির্ধারণী সংলাপে অংশ নিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে আইএমএফ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বেসরকারি সংগঠন ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বৈঠকে রাজস্ব নীতি, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সর্বশেষ এই বৈঠকটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন এক সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com