ট্রাম্প-পুতিন আলোচনায় ব্যর্থতা, ইউক্রেন সংকট অব্যাহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
ট্রাম্প-পুতিন আলোচনায় ব্যর্থতা, ইউক্রেন সংকট অব্যাহত

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, আর ক্রেমলিন তাদের নতুন পারমাণবিক শক্তি চালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পোসাইডন আন্ডারওয়াটার ড্রোন পরীক্ষা করেছে। দুই দেশের পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে পারে।

উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা শুধু কূটনৈতিক তর্কসীমায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্থলভাগেও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বছরের শুরুতে সম্পর্ক উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখন নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করার সময় ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে যুদ্ধ এখনও অব্যাহত এবং দুই দেশ শান্তি প্রস্তাবের বদলে একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে।

ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন। তিনি তার বন্ধু স্টিভ উইটকফকে বিশেষ দূত হিসেবে পাঠিয়েছেন পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য। তবে উইটকফের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং রাশিয়ার অবস্থান বুঝতে না পারার কারণে আলোচনায় কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ইউরোপের কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, উইটকফ প্রায়ই পুতিনের নীতির সূক্ষ্মতা ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ক্রেমলিনের উদ্দেশ্য ভুলভাবে বোঝান। ফলে, আলাস্কার শীর্ষ বৈঠক হঠাৎ সংক্ষিপ্ত করা হয়, এবং ট্রাম্প ও পুতিন কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাননি।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানায়, ট্রাম্প ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি বিনিময়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং পুরো ডনবাসের নিয়ন্ত্রণসহ ইউক্রেনের আত্মসমর্পণ দাবি করেছেন। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, ট্রাম্পের ব্যবসায়িক মানসিকতা এবং ‘রিয়েল এস্টেট ডিল’-এর মনোভাব পুতিনের কৌশল বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

রাশিয়ার অবস্থান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অপরিবর্তিত রয়েছে। পুতিন যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে পাঁচটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলে রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি, ইউক্রেনের নিরপেক্ষতা, সেনাবাহিনী হ্রাস, রুশ ভাষার সুরক্ষা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবি করেছেন। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের জন্য এটি অগ্রহণযোগ্য, কারণ তারা প্রথমে যুদ্ধবিরতি চাইছে।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভূখণ্ডের বিষয়ে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, মূল সমস্যা হলো ইউক্রেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, সহজে ভূখণ্ড বিনিময় সম্ভব, কিন্তু রাশিয়ার লক্ষ্য সার্বভৌমত্ব এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

শীর্ষ সম্মেলনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং আলোচনায় অগ্রগতির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ট্রাম্প সরাসরি পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছিলেন কিয়েভকে পাশ কাটিয়ে, যা ইউক্রেন ও ইউরোপকে উদ্বিগ্ন করেছে। পরে ট্রাম্প ইউক্রেন বিষয়ে স্বর নরম করলেও রাশিয়া নমনীয় হয়নি। এই অগ্রগতির ঘাটতি ইউরোপীয় কূটনীতিকদের জন্য সময় কেনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

অক্টোবরের মাঝামাঝি ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের পর, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্লুমবার্গ জানায়, রাশিয়ার বিশাল দাবির পুনরাবৃত্তি এবং কূটনৈতিক জটিলতার কারণে বৈঠক কার্যকর হয়নি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে পুতিনের চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তি প্রদর্শনের সংকেতও পাঠানো হয়েছে।

মোটকথা, ট্রাম্প ও পুতিনের আলোচনার ব্যর্থতা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার প্রদর্শন এবং ইউক্রেনের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ফারাকের কারণে ইউক্রেন সংকট স্থির হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com