মিয়ানমার-থাইল্যান্ডে ভূমিকম্প, সতর্কতা জারি স্থানীয় প্রশাসনের

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় কম্পনের কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের দাওয়েই শহর থেকে ২৬৭ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে আন্দামান সাগরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ঘটে।

প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জরুরি সেবা ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং সতর্কতা তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রকোপ অনুভব করেই অনেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান। পরদিন শনিবার আরও তিনবার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা এটিকে আগের ভূমিকম্পের আফটারশক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভারতের ভূকম্পনবিদ্যা সংস্থা (ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি, এনসিএস) জানিয়েছে, একই সময়ে মিয়ানমারেও অন্তত তিনটি ভূমিকম্প হয়েছিল। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৪১ মিনিটে ৩.৫ মাত্রার কম্পন, সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে ৩.৭ মাত্রার কম্পন এবং রাত ১১টা ১ মিনিটে ৩.৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এসব কম্পনেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আন্দামান-নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ এবং মিয়ানমার-পার্থিব সীমান্ত অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা। এই অঞ্চলে ভূমিকম্প সাধারণত ছদ্ম-অতিরিক্ত বা মাঝারি মাত্রার হয়, যা কখনো কখনো আশেপাশের দেশগুলোতেও অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামনের কয়েকদিনে আফটারশক বা মৃদু কম্পন আরও হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং জরুরি সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান নির্বাচন, উচ্চ ভবন থেকে দূরে থাকা, নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকায়, বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে মানুষ আগের ভূমিকম্পের স্মৃতি থেকে উদ্বিগ্ন। এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক কাঠামো এমন যে, মৃদু কম্পনও দ্রুত অনুভূত হয়। তাই স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তথ্য সরবরাহ এবং জরুরি সেবা প্রস্তুত রেখেছে।

ভূমিকম্পের এই সিরিজ পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, পূর্বাভাসহীন কম্পন থেকে সুরক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে ঘরে বা খোলা জায়গায় নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com