ঢাকার ১৮ পয়েন্টে অবরোধে অচল রাজধানী, সারাদেশেই বিস্তৃত বাংলা ব্লকেড

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ : ১০ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে নতুন কর্মসূচি ১০ জুলাই ঢাকাসহ সারা দেশে অনিশ্চয়তা আর অচলাবস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। সকাল ১০টা থেকে রাত পর্যন্ত একটানা এই অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেল যোগাযোগ, ব্যাহত হয় জনজীবন। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে রাজপথে নেমে আসেন, দাবি একটাই—সব গ্রেডে অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সীমা রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক মিছিল শাহবাগ থেকে ছড়িয়ে পড়ে বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, পরীবাগ, মগবাজার, মৌচাক, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বিজয় সরণি, সংসদ ভবন, নিউ মার্কেট, মিরপুর রোড ও শান্তিনগর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীদের দখলে চলে যায় সায়েন্সল্যাব মোড়, জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল, বকশীবাজার, মহাখালী ও রামপুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। ঢাকার ভেতরে ও বাইরে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে যায়, ভোগান্তিতে পড়ে অফিসগামী মানুষ থেকে রোগী পরিবহন পর্যন্ত সবকিছু।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট অংশে আন্দোলনকারীদের অবস্থান সরাসরি এক্সপ্রেসওয়ের চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর সঙ্গে কারওয়ান বাজার রেললাইনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজধানীকে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে ছিন্ন করে ফেলে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় রেলপথ অবরোধ করে রাখা হয়, তিস্তা এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।

রাজধানীর বাইরে আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী, ঢাকা-আরিচা সড়কের সাভার, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও পটুয়াখালী পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের ডুয়েট, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিএম কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরাও অবরোধে অংশ নিয়ে সরাসরি রেল ও সড়কপথ বন্ধ করে দেন। পটুয়াখালীতে পায়রা সেতুর টোলপ্লাজা, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ফরিদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুরের মাটিখোলার মতো এলাকাগুলোও এই অবরোধে যুক্ত হয়।

তীব্র দাবির মুখে উচ্চ আদালত ওই দিন সরকারি চাকরির ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে কোটা বহাল রাখার বিষয়ে ‘স্থিতাবস্থা’ জারি করেন। আদালত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামিয়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরার পরামর্শও দেন। তবে শাহবাগের সমাবেশে আন্দোলনকারীদের নেতা আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশনা তাদের দাবির পূর্ণ সমাধান নয়। তাদের একটাই দাবি—সব গ্রেডে অযৌক্তিক কোটা বাতিল করে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সীমা রেখে তা সংসদে আইন হিসেবে পাস করতে হবে।

শাহবাগে সমাবেশে সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলনের ফয়সালা আদালতের হাতে নয়, সরকারের হাতে। সরকারের হাতে পরিপত্র জারি ও বাতিলের একচ্ছত্র ক্ষমতা। এই দায়িত্ব থেকে তারা সরে যেতে পারে না।’

তাই স্থিতাবস্থার আদেশ সত্ত্বেও আন্দোলন থামছে না। নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, ১১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে ফের ‘বাংলা ব্লকেড’ শুরু হবে। রাজধানীর শাহবাগসহ সারাদেশের সড়ক ও রেলপথে আবারও শিক্ষার্থীদের ঢল নামবে—এ আশঙ্কায় জনমনে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মেঘ জমছে।

সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার ঘিরে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এই আন্দোলন ক্রমেই বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়ছে, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে নতুন করে সরকারের কাছে সমাধানের আহ্বান ছুঁড়ে দিচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত