পঞ্চগড়ে টানা ৯ দিন শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১২ বার

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হিমালয়ের পাদদেশের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত নয় দিন ধরে টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে এই জনপদ। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা বরফশীতল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তেঁতুলিয়াসহ পুরো জেলায় তাপমাত্রা এখন ৯ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় কয়েক দিন পর পরই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে এই জেলায়। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চারপাশ, ফলে প্রাত্যহিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাতভর ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রকোপে জনজীবনে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৩ শতাংশ। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শীতকালে এ অঞ্চলে হিমেল বাতাসের তীব্রতা অন্যান্য জায়গার চেয়ে অনেক বেশি থাকে। বর্তমানে চলমান এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন পঞ্চগড়ের পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে; হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে গণপরিবহন। শীতের কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের উপার্জনে। দিনের বেলাতেও ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়া মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে সাধারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ায় বাজারে কেনাকাটা ও প্রাত্যহিক লেনদেনেও মন্দা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, কনকনে শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে জেলাজুড়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্করা শীতকালীন ডায়রিয়া ও কোল্ড অ্যালার্জিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক মানুষ শীতজনিত সমস্যা নিয়ে আসছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশু ও বৃদ্ধদের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com