সর্বশেষ :
জীবননগরে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ টানা পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, স্বস্তি মিলতে পারে তাপদাহ থেকে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি না করার সতর্কবার্তা অবৈধ গ্যাস সংযোগে চুন কারখানা, রাষ্ট্রের কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে দুইজন কারাগারে কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া হামলা হলে ন্যাটোকে বিধ্বংসী জবাব দেবে রাশিয়া লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষে নিহত ৪ ইসরাইলি সেনা, বাড়ছে উত্তেজনা সাঘাটায় যমুনা নদীর তীররক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার আড়াই ঘণ্টার পতাকা বৈঠকেও মিলল না ডিপজলের খোঁজ, উদ্বেগে পরিবার সাতক্ষীরায় পৃথক স্থান থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

রাজনীতি কৌশলের খেলা, খুনাখুনি নয়: বাঞ্ছারামপুরে সাকি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার
রাজনীতি কৌশলের খেলা, খুনাখুনি নয়: বাঞ্ছারামপুরে সাকি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনীতি কোনো সহিংসতার ক্ষেত্র নয়, এটি কৌশল, মতাদর্শ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া—এমন স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি। তিনি বলেছেন, রাজনীতির নামে খুনাখুনি, হানাহানি কিংবা প্রতিহিংসা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বাইরে অন্য কোনো স্বার্থে তিনি বা তাঁর রাজনৈতিক সহযাত্রীরা কখনো আন্দোলন করেননি বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জোনায়েদ সাকি। শীতের বিকেলে মাঠজুড়ে জড়ো হওয়া মানুষের উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখর পরিবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন দীর্ঘ সময় ধরে, যেখানে জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা—সবকিছুই উঠে আসে তার কথায়।

সাকি বলেন, রাজনীতি মানেই কৌশলের খেলা। এখানে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে হয় যুক্তি, কর্মসূচি ও বিশ্বাসযোগ্যতার মাধ্যমে। সহিংসতা দিয়ে ক্ষমতা দখল বা রাজনৈতিক ফায়দা লুট করা যায় না। যারা রাজনীতিকে খুনাখুনি ও দমন-পীড়নের পথে নিয়ে যেতে চায়, তারা আসলে জনগণের শত্রু। তাঁর ভাষায়, “আমরা জনগণের স্বার্থের বাইরে অন্য কোনো স্বার্থের জন্য রাজপথে নামিনি। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের লড়াই-সংগ্রাম।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো নির্ধারণের নির্বাচন। তাঁর মতে, এবারের নির্বাচন দুটি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে—একটি গণভোট, অন্যটি সাধারণ নির্বাচন। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে এই গণভোটের প্রস্তাব বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছে এবং জনগণের রায় ছাড়া সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না।

এ প্রসঙ্গে সাকি বলেন, গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে জনগণের মতামতই রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হয়। একই সঙ্গে একটি কার্যকর সংসদ গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ আসনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে জনগণের ক্ষমতায়নের কথা, যেখানে ভোটাধিকার কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বাস্তব অর্থেই কার্যকর হবে।

দেশের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিভক্ত জাতি কখনোই নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের দিক দিয়ে আক্রমণের মুখে পড়েছে, সেসব দেশের জনগণ নিজেদের মধ্যে বিভক্ত থাকায়ই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা দেখেছেন, দেশের ভেতরে বিভাজন থাকলে কী হতে পারে। রাতের আঁধারে প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সাকি বলেন, এই আন্দোলনের রক্তের বিনিময়েই একটি নতুন দেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই রক্তের দায় আমাদের সবার কাঁধে। তিনি বলেন, আজকের শিশুরা যেন একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ পায়, সেই দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐক্যই ভবিষ্যতের রাজনীতির পথ দেখাবে।

সাকি আরও বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সামনের জাতীয় নির্বাচনে এই যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার হবে জনগণের সরকার, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।

বাঞ্ছারামপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এই এলাকা তার কাছে শুধু একটি নির্বাচনী আসন নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তিনি জানান, আগামী সরকারে যদি তাঁদের প্রভাব রাখার কোনো সুযোগ তৈরি হয়, তবে বাঞ্ছারামপুরের মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, “এই এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। আমি এখান থেকে নির্বাচন করতে এসেছি, কারণ আমি চাই বাঞ্ছারামপুরবাসীর কথা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে।”

পথসভায় উপস্থিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, সাকির বক্তব্যে তারা নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন। অনেকেই বলেন, রাজনীতিতে সহিংসতার বদলে যুক্তি ও মানবিকতার কথা বলাই আজ সময়ের দাবি। সভাস্থলে তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যারা সাকির বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মাঝে মাঝে স্লোগানে মুখর করে তোলেন মাঠ।

অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বিএনপি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বলেন, এই পথসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক বার্তা—যেখানে সহিংসতার রাজনীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই বার্তা বাঞ্ছারামপুর ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

সার্বিকভাবে, বাঞ্ছারামপুরের এই পথসভা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কৌশল নতুন মাত্রা পাচ্ছে। জোনায়েদ সাকির ভাষায়, রাজনীতি হবে মানুষের জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য—খুনাখুনি নয়, সহিংসতা নয়; বরং ঐক্য, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পথেই এগোবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত