রাজশাহী সীমান্তে নির্বাচন ঘিরে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৫ বার
রাজশাহী সীমান্তে নির্বাচনকালীন বিজিবি নিরাপত্তা

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে ৪ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় করা এবং প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী পোস্টাল একাডেমির সামনে রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বহুমাত্রিক ও সময়োপযোগী করতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন হয়।

রাজশাহী সেক্টরের আওতাধীন সাতটি জেলা, ৬২টি উপজেলা এবং একটি সিটি কর্পোরেশন নিয়ে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। এই অঞ্চলে রয়েছে ৩৭টি সংসদীয় আসন, যেখানে নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই ৬৫টি বেইজ ক্যাম্প থেকে মোট ১৪৬টি প্লাটুনকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত স্থানান্তরিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।

সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ৭৬টি বর্ডার আউট পোস্টে প্রতিটিতে ১০ জন করে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ সদস্য প্রস্তুত থাকবে, যারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামতে পারবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে রাজশাহী সেক্টরে চার হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

কর্নেল কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন একটি সংবেদনশীল সময়। এ সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদকপাচার কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা থাকে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবি শুধু জনবল বাড়াচ্ছে না, বরং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়।

নির্বাচনকালীন যেকোনো বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স ফোর্স অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে। এই ব্যবস্থা সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত অঞ্চল ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পারস্পরিক সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিজিবির এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কে বিজিবির একটি নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় মোবাইল টহল, তল্লাশি কার্যক্রম এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে বাহিনীর প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে স্থানীয় জনগণও উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত এলাকায় শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজশাহী অঞ্চল কৃষি ও বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। বিজিবির এই উদ্যোগ নির্বাচনের আগে ও পরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন প্রস্তুতির ফলে ভোটকেন্দ্র ও সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে মানবাধিকার ও আইনের শাসন বজায় রেখেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।

সব মিলিয়ে রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির এই ব্যাপক প্রস্তুতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের নিরাপত্তা অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চিতে নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com