জার্মানি-চীনকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৫ বার
চীন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায়

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন উদ্বেগের মধ্যে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনের প্রতি সংযম ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, সম্প্রতি মার্কিন–রাশিয়ার নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ। জার্মানি মনে করছে, ভবিষ্যতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে চীনকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

নিউ স্টার্ট চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের প্রধান পারমাণবিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল বলেন, “যেকোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া উদ্বেগের কারণ। এটি দেখায়, নতুন আস্থা ও সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করা কতটা জরুরি। ভবিষ্যতের সব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “চীন বারবার বহুপাক্ষিকতার পক্ষে কথা বলছে। এবার তাদের অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তারা সংযম দেখাতে এবং আন্তর্জাতিক আস্থায় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।”

এই মন্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এমন একটি নতুন চুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। রুবিও বলেন, “২১ শতকে বাস্তব অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চাওয়া মানে চীনকে বাদ দিয়ে কিছু করা অসম্ভব। কারণ চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট আগেও এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্প্রতি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী চীনের কাছে প্রায় ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও সংখ্যাগতভাবে এটি এখনও নিউ স্টার্ট চুক্তির আওতাধীন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় কম, যা প্রায় ৮০০টির বেশি। তবে পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধির হারের কারণে বিশ্লেষকরা উদ্বিগ্ন।

ফ্রান্স ও ব্রিটেনও পারমাণবিক অস্ত্রশক্তি ধরে রেখেছে। চুক্তির আওতায় না থাকা এই দুই দেশের কাছে মোট মিলিয়ে প্রায় ১০০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শক্তি চীনের দ্রুত বর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতার দিকে নজর রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সম্পৃক্ততা ছাড়া বিশ্বস্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি কার্যকর হওয়া কঠিন।

নিরস্ত্রীকরণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কর্মীরা নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সংযমের জন্য সতর্ক করে বলছেন, এ সময়ে চীনের সংযম অপরিহার্য। তারা মনে করছেন, চীনের অংশগ্রহণ না থাকলে নতুন প্রতিযোগিতা ও পারমাণবিক হুমকির ঝুঁকি বাড়বে, যা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সম্প্রতি পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক শক্তির সঙ্গে নতুন প্রতিযোগিতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সূচনা করতে পারে। তাই জার্মানির আহ্বান চীনের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক সমঝোতা বজায় থাকে এবং নতুন প্রতিযোগিতা থেকে এড়ানো যায়।

যুদ্ধাপরাধ ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জার্মানির এই আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সংযম ও অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করবে।

চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের ক্রমবর্ধমানতা, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য চীনের অন্তর্ভুক্তি—এই তিনটি দিকই বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জার্মানির আহ্বান একপক্ষীয় শক্তি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্বকে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com