ইতিহাসের সবচেয়ে উৎসবমুখর ভোট চলছে: জামায়াতের মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
ইতিহাসের সবচেয়ে উৎসবমুখর ভোট চলছে: জামায়াতের মন্তব্য

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় গণভোটের তৃতীয় ঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে নজিরবিহীন উৎসবমুখর ভোটগ্রহণের দৃশ্য চোখে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৃহস্পতিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই নির্বাচনী পরিবেশ চমৎকার এবং উৎসবমুখর।

জুবায়ের বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকেই দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও শহরের ভোটকেন্দ্রে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। ভোটের এই দৃশ্য আগের যে কোনো নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে এটিকে একটি বিশেষ উৎসবমুখর ইতিহাস বলা যায়। সরকারি ছুটির কারণে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসেছে, যেখানে তরুণ-যুবক এবং নারীরা কক্ষ অনুযায়ী নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন। প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটারদের মধ্যে উদ্দীপনা, উৎসাহ এবং দায়িত্ববোধ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, “এবারের এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সারা দেশে ২৯৯টি আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে হ্যাঁ বিজয়ী হলে দেশের সংস্কারকাজ সুষ্ঠুভাবে এগোবে। মুসিবত মুক্ত, কল্যাণমুখী নতুন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়া অপরিহার্য।” তার ভাষায়, ভোটের এই দিনটি শুধু নির্বাচনের দিন নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক মহৎ দায়িত্ব।

জুবায়ের জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জামায়াতের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াতের আমির মনিপুর স্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন। তিনি পরে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে নিজের এজেন্ট এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন, ভোটের পরিবেশ খতিয়ে দেখেছেন এবং ভোটারদের উৎসাহ দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রেও জামাতের নেতা ও প্রার্থীরা ভোট প্রদান করেছেন। জুবায়েরের মতে, এই সব পদক্ষেপ নির্বাচনে স্বচ্ছতা, সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, তরুণ ভোটাররা ভোটের নতুন ইতিহাস দেখছে। এরা এখন পর্যন্ত ভোট ডাকাতি, রাতের ভোট, বা নকল ভোটের মতো ঘটনার সাক্ষী ছিলেন, কিন্তু এবার তারা একটি স্বচ্ছ, উৎসবমুখর ভোটের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। জুবায়ের তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছেন, ভোটের মাধ্যমে সৎ ও দক্ষ প্রার্থীর পক্ষে অংশগ্রহণ করে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। তার ভাষায়, “আজকের এই ভোট উৎসব কেবল ভোট নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের নতুন রূপ, যেখানে প্রত্যেক ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

যদিও জুবায়ের দেশের ভোটগ্রহণের উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করেছেন, তবুও তিনি কিছু জায়গায় ঘটেছে নৈরাজ্যপূর্ণ ঘটনারও কথা উল্লেখ করেছেন। ভোলা-২ আসনে ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ভোট এজেন্টদের বাধা দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা-৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে, এবং নোয়াখালীর হাতিয়ার এক নির্বাচনী এলাকায় এনসিপি সমর্থিত প্রার্থীর ভোটারদের আঘাত করা হয়েছে। জুবায়ের বলেন, “এগুলো যারা করছে তারা জনগণকে হতাশ করছে। তবে আমরা আশা করি, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা যেন কোনো দিকে হেলে না পড়ে এবং যদি হয়, তাহলে তাদের জবাবদিহি করতে হবে।”

জুবায়েরের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামাতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন উদ্দিন খালেদ, অলিউল্লাহ নোমান, জাহিদুর রহমান প্রমুখ। তারা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটাররা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করছেন। নির্বাচনী কেন্দ্রে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনসার সদস্যরা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে দায়িত্বে রয়েছেন। ভোটারের উচ্ছ্বাস এবং উৎসাহ একত্রে কেন্দ্রে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

জুবায়ের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, এবারের নির্বাচন শুধু ভোট প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নৈতিক উদ্দীপনার প্রতীক। তার ভাষায়, ভোটারের নৈতিক দায়বদ্ধতা সমান গুরুত্বপূর্ণ যেমন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তেমনই নির্বাচিত প্রার্থীর দায়িত্বও দেশের কল্যাণে কাজ করা।

বৃহস্পতিবারের এই ভোটের দিনে দেশের মানুষ একটি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার অংশ। প্রতিটি জেলা ও উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করছেন। কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হচ্ছে, কিছু কেন্দ্রে ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ভোটাররা এখন কেবল ভোট দিচ্ছেন না, বরং দেশের ভবিষ্যতের অংশীদার হিসেবে তাদের দায়িত্বও পালন করছেন।

জামায়াতের নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের অংশগ্রহণ, কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মিলিয়ে এবারের ভোটকে ইতিহাসের সবচেয়ে উৎসবমুখর ভোট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দেশের গণতন্ত্র এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে। ভোটের মাধ্যমে নিজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার এই বার্তা জনগণের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।

এর ফলে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক, নৈতিক ও সামাজিক অর্জন হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ভোটারদের উৎসাহ, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সচেতনতা—সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে এক অভিনব, উৎসবমুখর অভিজ্ঞতা হিসেবে রূপ দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত, দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের ইতিহাস রচনা করছে। জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের বক্তব্য সেই প্রক্রিয়াকে উজ্জ্বল আলো হিসেবে তুলে ধরেছে, যেখানে ভোট দেওয়া কেবল অধিকার নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি দায়িত্ব, উদ্দীপনা এবং উৎসবের চিহ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com